র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে, তবু আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল; সন্তুষ্ট কোচ বাটলার

প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১১ দলের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। যেখানে অন্য সব দলের অবস্থান ৭০-এর ঘরে, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান র্যাংকিং ১১২। তবে পরিসংখ্যানের এই ব্যবধানকে মানসিক শক্তি ও পরিশ্রম দিয়ে পুষিয়ে নিতে চাইছেন কোচ ও খেলোয়াড়রা।
সিডনিতে গত চার দিন ধরে অনুশীলন করছে ঋতুপর্ণা চাকমাদের দল। দলের হেড কোচ পিটার বাটলার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, র্যাংকিংয়ের ব্যবধান মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, “আমাদের স্বীকার করতে হবে যে আমরা অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছি। সেই ঘাটতি পূরণ করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক মানসিকতা জরুরি।”
অনুশীলনে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টায় বেশ সন্তুষ্ট কোচ। তিনি বলেন, “মেয়েরা অসাধারণ পরিশ্রম করছে। তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রশংসার যোগ্য। আমি তাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি দেখছি না।” যদিও বাটলারকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও অবস্থান পরিবর্তনের নজির রয়েছে, তবু বর্তমানে তিনি দলের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী।
আগামীকাল সিডনিতে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ বাটলার। তিনি জানান, দুই অর্ধে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে সামগ্রিক সক্ষমতা যাচাই করতে চান। সম্ভাব্য ফরমেশন হিসেবে ৩-৪-৩, ৩-৫-২ কিংবা ৪-৩-৩ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানান বাটলার। তাঁর মতে, এই ম্যাচ মূলত প্রস্তুতির অংশ—ফলাফল নয়, পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য।
সিডনির ভ্যালেন্টাইন্স পার্ক মাঠ নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ। অনুশীলনের পরিবেশকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের খাদ্যব্যবস্থাও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, অ্যাথলেটদের উপযোগী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রস্তুতিতে সহায়ক হচ্ছে।
র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং সুশৃঙ্খল প্রস্তুতিই এখন বাংলাদেশের মূল ভরসা। এশিয়ার বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঋতুপর্ণারা।