বিসিবির সভাপতির আসন কি নিরাপদ?

নিয়ম না হলেও এটি একটি রীতি বলা যায়—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতেও পরিবর্তন আসে। ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলে এই প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়।
এই সময়ে বিসিবিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় বিস্তারিত পুনর্গঠন ও দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটে। নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সভাপতি ও সদস্যদের পরিবর্তন এবং সংগঠনের কার্যক্রমের নতুন রূপায়ণ লক্ষ্য করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ক্রীড়া প্রশাসনে রূপান্তর একটি প্রথাগত প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। এতে ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে নতুন নেতৃত্ব ও নীতি প্রবর্তন করা সম্ভব হয়, যা প্রায়ই দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।
এই পরিবর্তনগুলো মূলত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নতুন নীতি এবং সংগঠন পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে আনা হয়।
বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে—বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে কি রদবদল হবে?
বিশেষ করে বিসিবি নিয়ে আলোচনা বেশি। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন থাকায় বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং শীর্ষ পরিচালকরা এই প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন।
নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, কোনো পদক্ষেপই আইনের বাইরে নয়। তিনি বোর্ড ভাঙার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং বোর্ডের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনের মধ্যে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আইসিসি ও ফিফার নিয়মাবলী লঙ্ঘন করলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে ভেতরের খবর অনুযায়ী, পুরো বোর্ড না ভাঙলেও জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে আসা ১০ পরিচালক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটার ২ জনসহ মোট ১২ পরিচালক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও থাকতে পারেন বা পদ হারাতে পারেন।
পেছনের প্রেক্ষাপট অনুসারে দেখা যায়, বিএনপিপন্থিরা পূর্বে বিসিবি নির্বাচনে বয়কট করেছিল। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তার অনুসারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর নিয়োগের অস্বচ্ছতার কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নেননি।
বর্তমানে আদালতের স্থগিতাদেশ এবং শুনানির প্রক্রিয়ার কারণে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরশিপের ওপর জটিলতা রয়েছে। যদি আদালত নতুন শুনানিতে এই প্রক্রিয়াকে আইনবিরোধী ঘোষণা করে, তবে বিসিবির জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে নির্বাচিত ১০ পরিচালক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২ পরিচালক পদ বাতিল হতে পারে।
ফলে, ২৫ সদস্যের বোর্ড পুরো না ভাঙলেও ১২ পরিচালক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে। ক্রীড়াঙ্গনে সবাই এখন এই সম্ভাব্য রদবদলের দিকে নজর রাখছে।