শাস্তি থেকে বাঁচলেন মেসি

লস অ্যাঞ্জেলেসের বিরুদ্ধে ৩–০ গোলে হারের পর ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসির ক্ষোভ প্রকাশ পাওয়া গেছে। ম্যাচ চলাকালীন তাকে রেফারির সঙ্গে কথাকাটাকাটি করতে দেখা যায়।
খেলা শেষ হওয়ার পরও মেসি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এই সময়ের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচ বিশ্লেষকরা বলেছেন, মেসির প্রতিক্রিয়া ফুটবল খেলার উত্তেজনা ও হারের প্রতিক্রিয়ার প্রাকৃতিক ফলাফল। ইন্টার মায়ামি ক্লাবও এর প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেছে।
ফুটবল অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কেউ মেসির আবেগকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ তাকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ম্যাচ শেষে দেখা যায়, রেফারি দল স্টেডিয়ামের ভেতরে তাদের কক্ষে প্রবেশ করছে।
ওই সময় মেসিও তাদের দিকে এগিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। তবে সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ তাকে ধরে ফিরিয়ে আনেন এবং দুজন একসঙ্গে নিজেদের দলের কক্ষে ফিরে যান।
অনেকের ধারণা ছিল, মেসি রেফারিদের কক্ষে প্রবেশ করেছেন, যা করলে তাকে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারত।
তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালায় মেজর লিগ সকার কর্তৃপক্ষ।
প্রথমদিকে স্পষ্ট ছিল না, মেসি আসলে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন কি না। তবে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, তিনি কর্মকর্তাদের বিশ্রামকক্ষে প্রবেশ করেননি এবং নিয়মভঙ্গের মতো কোনো কাজও করেননি। ম্যাচ শেষে কোনো কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।
এদিকে ‘মায়ামি হেরাল্ড’-এর সাংবাদিক মিচেল কুপম্যান জানান, মেসি যে দরজা দিয়ে গিয়েছিলেন সেটি রেফারিদের কক্ষ ছিল না এবং সেটি নিষিদ্ধ এলাকাও নয়। রেফারিদের কক্ষ ছিল সিঁড়ি বেয়ে ওপরে, আলাদা দরজা ও সতর্কতামূলক চিহ্নসহ।
ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো ম্যাচ শেষে মেসিকে রেফারির ওপর ক্ষুব্ধ হতে দেখেননি বলে জানান। তার ভাষায়, ‘না, আমি কিছু দেখিনি। ম্যাচ শেষ হতেই আমি কক্ষে চলে যাই।
বর্তমানে শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো শাস্তির ঘোষণা আসেনি। সাধারণত পরবর্তী ম্যাচ সপ্তাহের আগেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তদন্তে নিয়মভঙ্গের প্রমাণ না পাওয়ায় মেসি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যাচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে দলের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন।