আসিফ আকবরের মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় সাকিব

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে গত মাস থেকে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগে সাকিবকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় তার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নতুন করে তৈরি হয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সমর্থন এবং দলের ইতিবাচক মনোভাব সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার পথকে আরও সুগম করতে পারে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, শিগগিরিই তিনি মাঠে ফিরবেন।
গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবিও সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল– আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখবেন সাকিব। সেরকম কিছু হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে তাকে দেখার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই দল ওয়ানডে ফরম্যাটে সিরিজ খেলবে। তবে চলতি মাসে ফিরছেন না সাকিব।
যদিও সাকিবকে দেশের ফেরানোর প্রক্রিয়া থেমে নেই। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর সবশেষ গতকাল (শুক্রবার) এক টক শো-তে জানালেন, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। সবশেষ যখন আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম সেখানেও কথা হয়েছে। সাকিব বলেছে সে খেলতে চায়। এরপর বোর্ড পরিচালকদের সবার সম্মতিক্রমে আমরা সাকিবকে বাংলাদেশ দলে চেয়েছি।’
সাকিবের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা ও আইনি বিষয় নিয়ে আসিফ বলেন, ‘পরে সাকিবের মামলা বা অন্যান্য যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো নিয়ে তার আইনজীবী যোগাযোগ করেছে বিসিবির সঙ্গে। আমরা খুব দ্রুততম সময়ে খুব সম্ভবত রোববার-সোমবারে কেসের ফাইলগুলো পৌঁছে দেব এবং পরবর্তী দায়িত্ব সরকারের। আশা করছি রবি-সোমবারের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছে দেব সাকিবের কেসের ফাইলগুলো।’
একই অনুষ্ঠানে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সাকিব ক্রিকেটার কি না এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটগুলোতে খেলছে সে, সেখানে কিছু কিছু পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার। আমার মনে হয় যদি ফিটনেস লেভেলটা মোটামুটি থাকে (খেলতে পারবে), সে ভালো প্লেয়ার....বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্র্যান্ড।’
এর আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর আমিনুল হক বলেছিলেন, ‘সাকিব-মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে। আমরা এই ব্যাপারে নমনীয় থাকব। তাদের যে মামলা আছে, সেসব নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে। আমরা চাই সাকিব ফিরে আসুক। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেটা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে যাতে সে ফিরে আসে। আমরাও চাই, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-মাশরাফি ফিরে আসুক।’