ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন ঋতুপর্ণারা

এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার সবুজ গালিচায় নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পালা। নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমারা।
বাংলাদেশ নারী দলের এই অংশগ্রহণ দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপে ভালো ফলের আশায় দেশবাসীও তাকিয়ে আছে নারী ফুটবল দলের দিকে। এবার লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।
১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল।
গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী ফুটবল দল এবং উজবেকিস্তান নারী ফুটবল দল। ৩ মার্চ সিডনিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে কোচ পিটার বাটলার–এর শিষ্যরা।
দলে রোমাঞ্চ, প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধতা
প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার রোমাঞ্চ এখন দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে। বিশ্রামের ফাঁকে রিকশায় চড়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ঋতুপর্ণা চাকমা ইঙ্গিত দিয়েছেন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বড় মঞ্চ।
অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে পুরো দলকে নিয়ে একসঙ্গে অনুশীলন করিয়েছেন বাটলার। দলে আছেন সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি পুরোপুরি নেওয়া সম্ভব হয়নি। কোচের চাওয়া অনুযায়ী বিদেশে প্রস্তুতি ক্যাম্প আয়োজন করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
শুরুর দিকে থাইল্যান্ডে ক্যাম্প করার কথা থাকলেও তা বাতিল হওয়ায় দল আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। সিডনিতে স্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।
টার্গেট উজবেকিস্তান ম্যাচ
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। প্রায় সমশক্তির এই দলের বিপক্ষে জয় পেলে সেরা দুই রানার্সআপের একটি হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কঠিন গ্রুপ হলেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের মেয়েরা। লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া।