রাজশাহীর বঞ্চনা ঘুচাতে মন্ত্রিসভায় মিজানুর রহমানের অন্তর্ভুক্তির দাবি

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুকে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় দেখার জোরালো দাবি উঠেছে। বিশেষ করে রাজশাহীর থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি আনা এবং বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদের অন্তর্ভুক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।
রাজশাহীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিজানুর রহমান মিনু এক পরিচিত নাম। নব্বইয়ের দশক থেকে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজশাহীকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলেন, যা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, মিনু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন। এলাকায় পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে তারা তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
রাজশাহীর প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে শিল্পায়নের অভাব ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। স্থানীয়রা বলছেন, রাজশাহী বিভাগ কৃষিনির্ভর হলেও এখানে দীর্ঘকাল ধরে বড় কোনো কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানের খোঁজে এই অঞ্চলের তরুণদের ঢাকা বা অন্য শহরে পাড়ি দিতে হচ্ছে।
ভোটারদের দাবি, মিজানুর রহমান মিনুর মতো একজন দূরদর্শী নেতা যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের (যেমন: শিল্প, বাণিজ্য বা স্থানীয় সরকার) দায়িত্ব পান, তবেই রাজশাহীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।
রাজশাহীর সাহেববাজার, রেলগেট ও কোর্ট স্টেশন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা তাদের এই প্রিয় নেতাকে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই নয়, বরং একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, "মিনু ভাই রাজশাহীর নাড়ি-নক্ষত্র জানেন। তিনি সৎ, যোগ্য এবং মাটি ও মানুষের রাজনীতি করেন। তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া মানেই হলো পুরো উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দলের অবস্থান সুসংহত করতে মিজানুর রহমান মিনুর মতো একজন অভিজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ নেতাকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাখা জরুরি। বিভাগীয় শহর হিসেবে রাজশাহীর যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, তা নিরসনে একজন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, রাজশাহীবাসীর এই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আবেগের প্রতিফলন নতুন মন্ত্রিসভায় ঘটে কি না।