নির্বাচনে হেরেও সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে বসতে পারেন আমিনুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি যথেষ্ট পরিচিত।
নির্বাচনী মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, যদি আমিনুল হক নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে তিনি সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে বসতে পারেন। ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সংযোগের কারণে এই খবর দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ এবং জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের রাজনৈতিক ভূমিকায় আগমন ক্রীড়া খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন অপেক্ষা করছে দেশবাসী, যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তিনি কি সত্যিই ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বে আসবেন।
কিন্তু নির্বাচনে বিজয় হতে পারেননি তিনি। তবে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল বাতেনের কাছে তিনি পরাজিত হন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩টি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।
তবে নির্বাচনে না জিতলেও ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রয়েছে আমিনুলের সামনে। কারণ, বড় ব্যবধানে জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তার দল বিএনপি। ফলে ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় আমিনুল হকের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ক্রীড়াপ্রেমীদেরও দাবি, এ মুহূর্তে আমিনুলের চেয়ে যোগ্য ও ত্যাগী আর কেউ নেই।
গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপিও আমিনুলকে ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় মন্ত্রী বানানোর কথা ভাবছে। কারণ বেসরকারিভাবে ভোটে জিতে যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন তাদের চেয়েও যোগ্যতার বিচারে অনেক এগিয়ে রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
এ নিয়ে উপমহাদেশে দাবায় প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুলই। দল চাইলে তাকে টেকনোক্রেট হিসেবে মন্ত্রী করতেই পারে। গত এক দশক যে পরিমাণ জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছে যা অনেক শীর্ষ নেতাও করেননি। তার অবদান ত্যাগের বিষয়ের পাশাপাশি যোগ্যতা বিবেচনায় তাকে সম্মান দেয়া উচিত। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনই উপকৃত হবে।