শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

অবিশ্বাস্য মুহূর্ত! শেষ মুহূর্তের গোলকিপার গোলে রিয়ালের হার

অবিশ্বাস্য মুহূর্ত! শেষ মুহূর্তের গোলকিপার গোলে রিয়ালের হার
ছবি: বিবিসি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা—তারই আরেকটি জীবন্ত প্রমাণ দিল পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলকিপার আনাতোলিয় ক্রবিনের করা অবিশ্বাস্য গোলে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯৮তম মিনিটে কর্নার থেকে উঠে আসা ক্রবিন নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় রিয়াল শিবির, আর আনন্দে ফেটে পড়ে বেনফিকার গ্যালারি। গোলকিপারের এমন ম্যাচজয়ী গোল ইউরোপীয় ফুটবলে বিরল ঘটনাগুলোর একটি।

পুরো ম্যাচজুড়েই রিয়াল মাদ্রিদ বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও বেনফিকার রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে শেষ পর্যন্ত দলের নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক ক্রবিন—যিনি শুধু গোল বাঁচানইনি, জয় এনে দেওয়া গোলটিও করেছেন।

এই জয়ের ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে প্লে-অফ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বেনফিকা। অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত এই পরাজয়ে রিয়াল মাদ্রিদও প্লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে, তবে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ।

বিশ্লেষকদের মতে, প্লে-অফে রিয়াল মাদ্রিদ আবারও মুখোমুখি হতে পারে হোসে মরিনহোর ক্লাবের। সে ক্ষেত্রে এই হার রিয়ালের জন্য মানসিকভাবে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ম্যাচ শেষে বেনফিকার কোচ বলেন,
“এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এটা আমাদের বিশ্বাস আর লড়াইয়ের প্রতীক। গোলকিপার যে ম্যাচের নায়ক হতে পারে, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে।”

অন্যদিকে রিয়াল কোচ স্বীকার করেন, শেষ মুহূর্তের অসতর্কতার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।

শেষ পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল এক স্মরণীয় রাত—যেখানে নায়ক হয়েছেন এক গোলকিপার, আর ইতিহাস লিখেছে বেনফিকা।

লিসবনের বেনফিকার মাঠ এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকেও বেনফিকা প্রায় বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, কারণ গোলসংখ্যার বিচারে তারা পিছিয়ে পড়েছিল।

শেষ মুহূর্তের একটি ফ্রি-কিকে বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র। শেষ চেষ্টা দিতে আক্রমণে উঠে আসেন গোলকিপার ত্রুবিন। নিখুঁত টাইমিংয়ে ক্রস থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে থিবো কোর্তোয়াকে বোকা বানিয়ে ঘরের মাঠের গ্যালারিকে উন্মাদনায় ভাসান তিনি।

ম্যাচে অধিকাংশ সময় আধিপত্য বজায় রেখে খেলে যায় বেনফিকা। কিন্তু নষ্ট করে একাধিক সুযোগ। ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হয় একটি পেনাল্টিও। এসবের মাঝেই ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের হেডে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

যদিও ৬ মিনিট পরই স্বাগতিকদের হয়ে সমতা ফেরান আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডেরুপ হেড থেকে করে গোল করেন।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যায় বেনফিকা। অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির চ্যালেঞ্জে নিকোলাস ওতামেন্দি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে গোল করেন পাভলিদিস।

বিরতির পর ব্যবধান আরও বাড়ান শিয়েল্ডেরুপ, রিয়াল রক্ষণভাগের ঢিলেঢালা মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে কোর্তোয়ার নিকট পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান।

এমবাপে খুব দ্রুতই গোল শোধ দেন। এটি ছিল তার চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৩তম গোল, যা ম্যাচে বেশ উত্তেজনা যোগ করে। শেষদিকে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ পায়।

৯২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আসেনসিও। এরপর বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগো কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রতিবাদের জন্য দুইটি হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পান, ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল।

এরপরই আসে সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। নাটকীয় পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তের গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় বেনফিকা। লিগ পর্ব শেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ নবম এবং বেনফিকা ২৪তম স্থানে থাকায়, প্লে-অফ রাউন্ডে তাদের আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন