স্পেনেই বসছে ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল

২০৩০ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো—এই তিন দেশের যৌথ উদ্যোগে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের ফাইনাল ম্যাচটি স্পেনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সভাপতি রাফায়েল লুসান।
স্পেনের এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাফায়েল লুসান বলেন, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ২০৩০ আসরকে স্মরণীয় করে তুলতে তিন দেশের সম্মিলিত আয়োজন একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, ফাইনাল ম্যাচের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন স্পেনে হওয়াটা দেশটির ফুটবলের জন্য গর্বের বিষয়।
এই যৌথ আয়োজনে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে ফুটবল সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্পেন ও পর্তুগাল ইউরোপের অভিজ্ঞ আয়োজক হিসেবে অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় বড় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে মরক্কো আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা এই আয়োজন বিশ্ব ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়া বিনিময়কে আরও উৎসাহিত করবে। ফিফার পক্ষ থেকেও এই যৌথ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
২০৩০ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আয়োজক দেশগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাদ্রিদ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার রাতে লুসান বলেন, ‘স্পেন বিশ্বকাপের নেতৃত্ব দেবে এবং ফাইনাল হবে এখানেই।’
তবে ফাইনাল ম্যাচটি কোন শহর বা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারকৃত সান্তিয়াগো বের্নাবেউ স্টেডিয়ামকে ফাইনালের প্রধান ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে রাখছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের পর আন্তর্জাতিক মানের বড় আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার কাম্প নউ স্টেডিয়ামও ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে থাকতে পারে। দীর্ঘ সংস্কার শেষে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত নভেম্বরে সীমিত দর্শক নিয়ে মাঠে ফিরলেও পুরোপুরি প্রস্তুত হলে কাম্প নউ বড় দাবিদার হয়ে উঠবে।
এর আগে মরক্কোও ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
দেশটি নির্মাণাধীন হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজন করতে চায়, যা ২০২৮ সালে শেষ হলে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম হবে।
তবে চলতি মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে বিশৃঙ্খলার কারণে দেশটির সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২০৩০ আসরের একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল উরুগুয়েতে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
সেই আসরের ফাইনাল ভেন্যু হিসেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।