শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিতর্কে আর্থিক অনিয়ম ও পকেট কমিটির অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে পদায়ন, আর্থিক আত্মসাৎ এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ৩৬ দিন পর শপথ গ্রহণের আয়োজনের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষক ও প্রার্থীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি বিতর্কিত ‘পকেট কমিটি’ গঠনের পাঁয়তারা করছে স্বার্থান্বেষী একটি মহল।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দাখিল করেন রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রেজাউর রহমান। কিন্তু গত ৭ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নাটকীয় মোড় নেয় নির্বাচন।
সভাপতি পদপ্রার্থী ও বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলম এবং নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের চাপ দেন।
এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে স্বচ্ছতার অভাবে নির্দিষ্ট কয়েকজন বাদে সকল পদের প্রার্থীরা একযোগে নির্বাচন বর্জন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ শিক্ষকদের এই গণ-বর্জনকে তোয়াক্কা না করেই গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে।
গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও অবৈধ শপথের আয়োজন
সমিতির গঠনতন্ত্রের ৬ ধারার (গ) উপধারা অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ ৩৬ দিন পর আজ (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়, যাকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষকরা।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ রেজাউর রহমান লিটন বলেন, "শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। ১৫ দিনের নিয়ম ভেঙে ৩৬ দিন পর শপথের আয়োজন করা প্রমাণ করে তারা কোনো বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। আমরা এই অবৈধ আয়োজন বয়কট করছি।"
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও সামনে এসেছে। রেজাউর রহমান লিটন অভিযোগ করেন, বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলম আহ্বায়ক থাকাকালীন সমিতির ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের দায়সারা বক্তব্য
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমরা বিধি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করেছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।"
তবে নির্বাচনটি প্রত্যক্ষ ভোটে হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে, ভোট নয় বরং 'সিলেকশন' বা বাছাইয়ের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে মোঃ রেজাউর রহমান আজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে এই অবৈধ শপথ গ্রহণ স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে।
এবিষয়ে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হাশেম বলেন আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে তফসিল ঘোষনা করা হলেও পরবর্তী সকল কর্মকাণ্ড আহ্বায়ক কমিটিকে বাদ রেখে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে চালিয়ে যাচ্ছে বলে পরবর্তী সকল কর্মকাণ্ড বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে আজকে শপথ অনুষ্ঠানের কোন দাওয়াত পত্র আমাদের দেওয়া হয়নি যা সম্পুর্ন গায়ের জোরে চলছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি গঠনতন্র অনুযায়ী এই কমিটির শপথ নেয়া অবৈধ।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বর্তমানে জীবননগর শিক্ষক সমাজের মধ্যে এই কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষকদের দাবি, সিলেকশন নয় বরং স্বচ্ছ ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক।