বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম স্পারসো ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স খাতে বাড়ছে সুযোগ ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস সিলেটে এনসিপির কর্মসূচির পথে হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সারজিসের গাড়ি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভুয়া নিয়োগে কঠিন ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ‘দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের’, গোলাপগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর
  • ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানে পুনরায় চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানে পুনরায় চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার শালবাগান পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় ভাংড়ি ও পুরাতন কাগজের ব্যবসা করা এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা একই ব্যক্তিদের হাতে পুনরায় চাঁদাবাজি ও দোকান দখলের অভিযোগ তুলেছেন। 

    ভুক্তভোগী মো. রুবেল (৪২) বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। তিনি আসাম কলোনী এলাকার বাসিন্দা।

    রুবেল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘দরিদ্র ভাংড়ি কাগজ ঘর’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করছেন। দোকানটি ঘিরে প্রায় দশ বছর ধরে তাকে হুমকি, মারধর, চাঁদা দাবি ও দোকান তালাবদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।

    ভুক্তভোগীর দাবি, ০৫ আগস্ট ২০১৫ সালে বিকেল ৩টার দিকে আসাম কলোনীর দুই ব্যক্তি—মো. জয়নাল (পিতা মৃত বোরহান),মো. মুজাহার হোসেন বাবু (পিতা মৃত ইমান আলী) দোকানে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জিআই পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং দোকানে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে রুবেল দাবি করেন, হামলাকারীরা তাকে জানায়, “মার্কেট সভাপতি সিজার তাকে মারার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছেন।” আহত অবস্থায় তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেদিনই তিনি থানায় অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের সুরাহা হয়নি, দোকান তিন মাস তালাবদ্ধ থাকে।

    রুবেল বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আপোষের মাধ্যমে ২৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে সিদ্ধান্ত হয় যে তিনি ওই স্থানে আর ভাংড়ির ব্যবসা করবেন না। এরপর ড্রাম ফাউন্ডেশন থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ এবং নিজের জমানো ২০ হাজার টাকা যোগ করে ১ লাখ টাকা অভিযুক্তদের হাতে দেন ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে। এরপর দোকানের তালা খুলে দেওয়া হয়।

    রুবেলের অভিযোগ, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১টার দিকে একই ব্যক্তিরা আবারও দোকানে আসে। এ সময় তার ছেলে সিয়াম ও দোকানের কর্মচারী দোকান পরিষ্কার করছিলেন। অভিযুক্তরা আরও ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, চাঁদা না দিলে দোকান থেকে তাদের বের করে দেন এবং নিজেদের দুটি তালা ও রুবেলের নিজের দুটি তালা দোকানে লাগিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান।

    রুবেল আরও জানান, পরে তিনি মার্কেটের সভাপতি সিজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দেন। তবে সন্ধ্যার পর তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

    রুবেলের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দোকানের মালামাল লুটপাট করতে পারে বা দোকানে অবৈধ কিছু রেখে তাকে ফাঁসাতে পারে। তিনি বর্তমানে মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার অভিযোগ গ্রহণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও হামলার শিকার। আমার দোকান ও পরিবার নিরাপত্তা চাই। ন্যায়বিচার চাই।”

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, দোকান দখন বা চাঁদাবাজির বিষয়গুলো আমি জানি না। আমি কয়েকদিন হলো যোগদান করেছি। মারামারির ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। যদি এমন হয় তাহলে তারা আসলেও তাদের দোকান ঘর উদ্ধার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে। 

    এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মার্কেট সভাপতি সিজারকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
     


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন