বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেগুলেটরি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ, ডিএসইর কাছে জবাব চাইল বিএসইসি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই ‘খুব শিগগিরই ফিরতে পারব’, দেশে ফেরা নিয়ে সাকিবের আশা এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি ছাত্রশিবিরের আজ বিশ্ব বাঘ দিবস বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন
  • সরিষাবাড়ীতে ১ মন ধানের দামে মিলছে ১ মন খড়

    সরিষাবাড়ীতে ১ মন ধানের দামে মিলছে ১ মন খড়
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    হঠাৎ খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার গরু খামারিরা। মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি কেজি খড় বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ টাকায়, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। 

    বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চল এলাকার কৃষকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন, কারণ সম্প্রতি বন্যা ও নদীর ভাঙ্গনের কারনে ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

    ফলে খামারি ও কৃষকরা সম্পূর্ণভাবে খড় ও অন্যান্য পশুখাদ্যের ওপর নির্ভর হতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন ছোট-বড় খামারি ও গরু পালন করা সাধারণ মানুষ। ফলে খড়ের চাহিদা বাড়ায় ধানের থেকেও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে খড়।

    উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, সর্বশেষ জরিপে সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে প্রায় ৯৯ হাজার ৮০০ এর মতো গরু রয়েছে। বর্তমানে আগের থেকে বেশি গরু পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মতো গরু বিভিন্ন চরাঞ্চলে লালন-পালন করা হয়। 

    গরু পালনকারী ও খামরিরা জানান, প্রতিটি গরুর জন্য প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি খড়ের প্রয়োজন হয়। খড়ই হলো সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও অপরিহার্য খাদ্য, বিশেষত দুগ্ধ গাভীর জন্য, কারণ এটি দুধ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। 

    বর্তমানে প্রতি কেজি খড় গড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এক মন (খড়ের বোঝার আকার অনুযায়ী) ভালো মানের খড় কিনতে গেলে ১১ থেকে ১২শ টাকা লাগে। যা বর্তমান বাজারে এক মন ধানের দামের সমান। 

    আবার প্রতিটি খড়ের আটি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে। যে গুলো আগে ছিলো ২/৩ টাকা। নতুন খড় বাজারে না আসা পর্যন্ত হয়তো দাম এমনি থাকবে। খড়ের পাশাপাশি খৈল ও ভুষির দামও বেড়েছে, যা আমাদের সীমিত আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় গরু বিক্রি করে খড় কিনতে হচ্ছে আমাদের। অনেকে আবার খাদ্যের দাম বাড়ার কারনে গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। এছাড়া কোন উপায় নেই আমাদের।  

    পোগলদিঘা ইউনিয়নের চরগাছ বয়ড়া গ্রামের গরু পালনকারী শাহ জালাল পরান বলেন, আমার ৫টি গরু আছে। প্রতিটি গরুর জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি খড়ের প্রয়োজন হয়।

    এছাড়াও খড়ের পাশাপাশি ভুশি, চালের খুদ, খৈল সহ অন্য গো খাদ্য দিতে হয়। ঘাস চাষ করতেও জায়াগার প্রয়োজন হয়। এখন খড় ও সব পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরুর খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

    গরু খামারি নাসির উদ্দিন নাজমুল বলেন, আমার ১০টি গরু ছিলো, গরুর খাদ্য ও খড়ের দাম বাড়ার কারনে এবং খড়ের সংকটের কারণে গত সপ্তাহে একটা গরু বিক্রি করে দিয়েছি। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার থেকে অন্য গরুর জন্য খড় কিনেছি। এখনো খামারে ৯টা গরু আছে। নতুন ধান কাটার পর নতুন খড় পাওয়া গেলে তখন দাম হয়তো অনেকটাই কমে যাবে। বর্তমানে গরু পালন ও খাবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আশপাশের জমিতে ঘাসও নেই। বাধ্য হয়েই বেশি দামে খড় কিনতে হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, খড় এখন কৃষকদের কাছে ধানের মতোই মূল্যবান হয়ে উঠেছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে ধান কাটার কাজ শুরু হলে খড়ের দামও কমে আসবে।
     


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন