নরসিংদীতে এখনো চলছে বিচার-সালিশ বাণিজ্য

মোড়লের যুগ শেষ হলেও নরসিংদীতে এখনো বন্ধ হয়নি বিচার-সালিশের নামে বাণিজ্য। একসময় মানুষ গ্রামের মোড়ল বা পঞ্চায়েতের কথার বাইরে যাওয়ার সাহস পেত না। তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তই ছিল শেষ কথা। সময় বদলেছে, কিন্তু গ্রামীণ মানুষের প্রতি অবিচার আজও থামেনি। আধুনিক যুগে আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও অনেক সময় এখনো মানুষকে জিম্মি হতে হয় প্রভাবশালী মহলের কাছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক নেতা, ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালীদের মতের বিরুদ্ধে গেলে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এখানেই শেষ নয়—একটি মামলার বা ঝামেলার নিষ্পত্তিতে একাধিকবার সালিশ বসানো হয়, আর প্রতিবারই সালিশে উপস্থিত মাতব্বরদের টাকা দিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে অনেক সময় আসল সত্য গোপন হয়ে যায়। যে পক্ষ বেশি টাকা দেয়, বিচারও অনেক সময় তার পক্ষেই যায়। এতে বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়ের চেয়ে টাকার প্রভাবই বেশি দেখা যায়। ফলে দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ বঞ্চিত হন ন্যায়বিচার থেকে।
স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলে ভুক্তভোগীদের ওপর চলে নানা রকম চাপ ও হয়রানি।
বিচার-সালিশের নামে এই বাণিজ্য ও হয়রানিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।