বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে কাভা ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে নারীদের কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং মল ধস, আহত অর্ধশত; প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ দাবি, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিএসইসিতে চার বছরের জন্য নতুন কমিশনার হোসেন সাদাত সৌরবিদ্যুতের প্রসারের আড়ালে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, তবু এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
  • থাকেন লন্ডনে, পরীক্ষা দেয় বাংলাদেশে!

    সুনামগঞ্জ বিএনপির নেতা কামরুলের বিতর্কিত পরীক্ষা

    সুনামগঞ্জ বিএনপির নেতা কামরুলের বিতর্কিত পরীক্ষা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান কামরুলকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদাঘাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে তার বদলী হিসেবে তার আত্মীয় মোঃ মিজানুর রহমান মিজান নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিএ ইতিহাস-২ পরীক্ষার সময় কামরুজ্জামান লন্ডনে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিমানবন্দর থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডন থেকে সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    স্থানীয় এক ছাত্র-পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, “থাকে লন্ডনে, পরীক্ষা দেয় বাংলাদেশে। উনি আবার এমপি পদপ্রার্থী।” অভিযোগ অনুযায়ী, বাদাঘাট সরকারি কলেজের কেন্দ্রের মূল কক্ষে পরীক্ষা না দিয়ে প্রিন্সিপাল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় মিজানুর রহমানকে একটি গোপন রুমে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরীক্ষার সময় তিনি মূল কেন্দ্রের বাইরে প্রবেশ এবং প্রস্থান করেন যাতে অন্য পরীক্ষার্থীর দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া যায়। এই পদ্ধতি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২ পরীক্ষাতেও অনুসরণ করা হয়েছে।

    শিক্ষাগত অসঙ্গতিও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কামরুজ্জামান মাধ্যমিক শিক্ষা করেছেন তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, কিন্তু মাদরাসা থেকে দাখিল পাসের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সহায়ক কর্মকর্তাদের সমর্থনে তিনি নকল সার্টিফিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় অসঙ্গতি তৈরি করছেন।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কামরুজ্জামান সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) এলাকার বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির বর্তমান সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযোগ অনুসারে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে তার রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যবহার হয়েছে।

    অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে এই বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও আইনানুগ শাস্তির দাবি করেছেন। তারা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নকল বা অসৎ কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে। প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত রয়েছে স্টুডেন্ট আইডি সম্বলিত মার্কশীট, পরীক্ষা রুটিন, বিমানবন্দর থেকে প্রকাশিত মিডিয়া, পরিক্ষার্থীর ছবি ও ঠিকানা এবং বদলী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর তথ্য।

    তবে কামরুজ্জামান কামরুল লন্ডনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

    এই ঘটনা শিক্ষা ও রাজনীতির সংযোগে যে অসঙ্গতি তৈরি করছে তা সমাজে নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনকালীন সময়ে শিক্ষাগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা কতটা জরুরি তা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। শিক্ষার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পরিস্থিতি রোধ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে নকলমুক্ত শিক্ষা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন