বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন : ক্রীড়া উপদেষ্টা

মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন : ক্রীড়া উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলের সকল নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন বা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের আওয়ামী লীগের হুইপ মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্ষেত্রেও।

স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে মাশরাফি দেশে থাকলেও সাধারণ জনসম্মুখ থেকে দূরে রয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে নিজেকে গোপন রেখেছেন। এই পরিস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানালেন, তার ধারণা মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

মাশরাফি ইস্যুতে কথা উঠে এসেছে সাকিবকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে। তিনি সাকিবকে নিয়ে জানান, তাকে দেশে খেলতে দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা করার সুযোগ আর নেই। এখনো শেখ হাসিনাকে সমর্থনই তার মূল কারণ।

সাকিবের বিষয়ে আসিফ এরপর বলেন, ‘প্রথমত সাকিব আল হাসানের বিষয়গুলো কীভাবে আসল? শেয়ার মার্কেটে কেলেঙ্কারি নিয়ে মামলা হলো, তারপর আরও কিছু ফিন্যানশিয়াল ফ্রড নিয়ে দুদকের মামলা চলছে, তারপর তার বাবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এমন ভিডিও সামনে এসেছে, তার পরিবারের বিরুদ্ধেও সম্ভবত হত্যামামলা আছে। তো এগুলোর কারণে সামনে এসেছে বিষয়টা, এমন না যে আমরা পিক আপ করে নিয়ে এসেছি। আদার অ্যাক্টিভিটিস যেগুলোর কারণে বিষয়টা সামনে চলে এসেছে। এরপর ওনার শেখ হাসিনাকে এনডোর্স করার দিক দিয়ে এটা আবার আলোচিত হয়েছে।’

সে প্রসঙ্গ থেকেই আসিফ মাশরাফির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজার বিষয়ে এমন কিছু আছে কি না, এমন আমার জানা নেই বা আমার চোখে পড়েনি। আমার জানামতে উনি ওনার যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল সেটা থেকেও আবার সরে এসেছেন, ফেসবুকে উনি স্পষ্ট করেছেন বলে আমার মনে পড়ে।’ 

মূলত মাশরাফি তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিতটা ফেসবুকে দেননি। দিয়েছিলেন গেল বছরের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজনীতিতে আর নেই। বলেছিলেন, ‘যখন রাজনীতিতে ছিলাম, ক্রিকেট বোর্ডে থাকার চেষ্টা করিনি। এখন রাজনীতিতে নেই, এখন যদি বোর্ডে থাকার চেষ্টা করি বা থাকতে চাই, তাহলে কেমন হয়ে যায় না!’ রাজনীতি করার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন অতীতকালে। 

এছাড়া এরপরে তার কর্মকাণ্ড ইঙ্গিত করছে তিনি রাজনীতির সঙ্গে আর নেই। শেষ এক বছরে তিনি ১৪টি ফেসবুক পোস্ট করেছেন নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে। তার একটিও আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত নয়। পক্ষান্তরে সাকিব শেষ এক বছরে জুয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নিয়ে পোস্ট করেছেন একাধিক। 

তবে সাকিবের মতো অপরাধ যদি করে থাকেন মাশরাফি, তাহলে বিচার হওয়ার সম্ভাবনাটিও উড়িয়ে দেননি ক্রীড়া উপদেষ্টা। আসিফ মাহমুদের কথা, ‘এর বাইরে যদি উনি রাষ্ট্রীয় আইনে তিনি কিছু করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতেই পারে। ওনার বিষয়টা আলোচনায় নেই, কারণ উনি তো অবসর নিয়েছেন অনেক আগে। খেলার সাথে, সংশ্লিষ্ট জিনিসের সাথে তিনি আর ইনভলভ হন নাই। যে কারণে সেভাবে আলোচনায় আসেনাই। বাকিদেরটা যেভাবে রেলেভেন্ট ছিল, তারটা সেভাবে রেলেভেন্ট ছিল না আরকি।’


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন