পোরশায় শিশু সুমাইয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন, ৩ আসামি গ্রেফতার

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় নয় বছরের শিশু সুমাইয়া ইয়াসমিন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ । নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত আরও এক আসামি এখনও পলাতক রয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর (শনিবার) সকালে পোরশার ছাওড় ইউনিয়নের হীরাডাঙ্গা গ্রামের মো. হাসিম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন (৯) খাওয়া দাওয়া শেষে আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে খেলাধুলার জন্য বাড়ির বাইরে যায়। কিছু সময় পরই জানা যায়, হীরাডাঙ্গা গ্রামের মোশারফ হোসেন মশা'র আমবাগানের ভেতরে সুমাইয়াকে হাত বেঁধে, মুখের ভেতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে । এমন মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ পোরশা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পোরশা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
মামলার পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার, বিপিএম-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং মহাদেবপুর সার্কেল নওগাঁর তদারকিতে সংশ্লিষ্ট অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। আভিযানিক দলের প্রচেষ্টায় ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গত রবিবার (১০ অক্টোবর) রাতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,উপজেলার কুশারপাড়া ও পাঁচরাই গ্রামের মাহবুব আলম (৩০), সুজন (১৯) ও মোঃ নুর আলম (৩০) ।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম সুমাইয়া একটি প্লাস্টিকের সাদা ব্যাগ নিয়ে পেয়ারা নেওয়ার জন্য ধৃত আসামি মাহবুবের কাছে বাগানে গেলে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আসামিরা পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশু সুমাইয়া চিৎকার করলে তারা কাপড়ের মোটা ফিতা গলায় পেঁচিয়ে, হাত বেঁধে এবং মুখের ভিতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে । গ্রেফতারকৃত আসামিরা পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজন আসামির মধ্যে একজন এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষে অতিদ্রুত এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির পুলিশ রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে।