১০ বছর পর নিজস্ব ভবনে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা

দীর্ঘ এক দশক পর নিজস্ব ভবনে ফিরেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌর আধুনিক বিপণী বিতানে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ১০ বছর ধরে ভাড়া ভবনে পৌর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
জানা যায়, ১৯৭৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা গঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। শহরের বাজার রোডে পৌরসভার নিজস্ব কার্যালয় থাকলেও ২০১১ সালে তৎকালীন মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের ভবনটি ভেঙে বহুতল বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর আধুনিক বিপণী বিতানের কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। তখন দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরাদ্দে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
পৌরসভা কার্যালয় প্রথমে পৌর সুপার মার্কেটে এবং পরে উত্তর তেমুহনী এলাকার ইউনিক ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এসব ভবন ভাড়া নেওয়ায় পৌরসভার বিপুল অর্থ ব্যয় হয় এবং নাগরিকদের ভোগান্তিতেও পড়তে হয়।
২০২১ সালে মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভা কার্যক্রম চলে তার আত্মীয়ের মালিকানাধীন ভবনে। সেখানে প্রতি মাসে পৌরসভাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হতো।
স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন পৌর প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন। পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে তিনি উদ্যোগ নেন। তার নেতৃত্বে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক বিপণী বিতান সংস্কার করা হয় এবং অবশেষে পৌরসভা নিজেদের ভবনে ফিরে আসে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ ফারাবী, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সদস্য প্রফেসর জেড এম ফারুকী, সমাজসেবক ফারুক হোসেন নুরন্নবী, লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আ. হ. ম. মোশতাকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাবেল প্রমুখ।