মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

এয়ারবাস কেনা নিয়ে ঢাকার সিদ্ধান্তে নজর ইউরোপের

এয়ারবাস কেনা নিয়ে ঢাকার সিদ্ধান্তে নজর ইউরোপের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশ ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

এয়ারবাস কেনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও দরকষাকষি চলমান রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের কাছেও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একই বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উভয় পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় একটি অংশ ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়। ফলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়টিও দুই পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইউরোপ বাংলাদেশের ওপর কোনো সম্পর্ক চাপিয়ে দিতে চায় না; বরং দেশটির উন্নয়নযাত্রায় একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর আগে কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজন বিবেচনায় এয়ারবাস কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। বিমানের বহরে একাধিক নির্মাতার উড়োজাহাজ থাকলে বিভিন্ন মডেলের সক্ষমতা ও সুবিধা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন একটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ রয়েছে, যেটি ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল পর্যন্ত যেতে সক্ষম। তাঁর দাবি, এ ধরনের সক্ষমতার বিষয়গুলোও উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে বিবেচনা করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কিছু উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি এগিয়েছে এবং সেগুলোর কয়েকটি ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা রয়েছে। এটিকে তিনি বোয়িংয়ের একটি বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এয়ারবাস নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ এখনও রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত আছে এবং আলোচনাটি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।

ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এয়ারবাস কেনার বিষয়টি শুধু উড়োজাহাজ সংগ্রহের একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না; ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন, প্রয়োজন এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার ওপরই নির্ভর করবে।


সূত্র: ইউএনবি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন