শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

৬৪ জেলার তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, নজরে আইনশৃঙ্খলা-উন্নয়ন

৬৪ জেলার তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, নজরে আইনশৃঙ্খলা-উন্নয়ন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও সরকারি কর্মকাণ্ড তদারকিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ৩০ জনকে এক থেকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সংযোগ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের কার্যপরিধি অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মূলত জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকাণ্ডে তদারকি, সমন্বয় ও পরামর্শ দেবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে পারবেন। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, বদলি-পদায়ন করা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিলের কোনো ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তায় নজরদারি জোরদার করতেই নতুন এই কাঠামো করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক-সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

৩০ জনের দায়িত্বে ৬৪ জেলা

প্রজ্ঞাপনের তালিকা অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়া ৩০ জনের মধ্যে ১৩ জন মন্ত্রী, ১৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন জাতীয় সংসদের হুইপ। মন্ত্রীদের দায়িত্বে রয়েছে ২৩টি জেলা, প্রতিমন্ত্রীদের অধীনে ৩৩টি এবং তিন হুইপের অধীনে আটটি জেলা।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজন একটি করে, ১২ জন দুটি করে এবং ১১ জন তিনটি করে জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

মন্ত্রীদের মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ পেয়েছেন রাজশাহী ও নাটোরের দায়িত্ব। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্বে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়। আবদুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর, নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার এবং মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রামের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর; মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট; জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রু কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী; শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের দায়িত্বে রয়েছে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজিব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর; মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিন হুইপের মধ্যে জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন।

যেসব বিষয়ে নজর থাকবে

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে তারা নজরদারি করবেন।

পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতিও তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।

প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন