রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: বাড়ি ধুয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের জবাব

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবার। তবে পুলিশ এ অভিযোগকে ‘অবান্তর’ বলে দাবি করেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করা হয়।
সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাইট বন্ধ করে আলামত নষ্ট করা হচ্ছে। এ জন্য পানি দিয়ে বাড়িটি ধুয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ভাই সিদ্ধার্থ দাসকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, ভুল করে বাড়ির পানির মোটরের সুইচ চালু হয়ে গিয়েছিল। ট্যাংকি ভর্তি হয়ে যাওয়ার পর মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই পানি উপচে পড়লেও আলামত নষ্ট করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ অন করতে গিয়ে ভুল করে পানির মোটরের সুইচও চালু হয়ে যায়। পুলিশ বাড়ির ভেতরে কোথায় কী রয়েছে, সে বিষয়ে অবগত না থাকায় ট্যাংকি থেকে পানি উপচে ছাদে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আলামত নষ্ট করার অভিযোগ একেবারেই অবান্তর। লাশ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চারজনের মরদেহ উদ্ধার
গত শনিবার রাতে রংপুরের একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।