স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে সংসদে হট্টগোল

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি মন্তব্য করলে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি প্রশ্নটি বুঝতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের হট্টগোলের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার বলেন, ‘এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। আপনারা তো ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন।’ তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
স্পিকার আরও বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর উনি দিক, তারপর যদি তা পছন্দ না হয় আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে মাইক দেবো।’
এরপরও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। এ সময় স্পিকার বলেন, ‘পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে।’ তিনি সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছেন বলেও জানান।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি বলেন, তাঁর শব্দচয়নে আপত্তি থাকলে তিনি এর জবাব দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে আমিও পারবো। যদি কথা বলতে না দেন তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’
বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের করা অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোন বিরোধীদলীয় এমপির মামলায় আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। শুধু সাধারণভাবে অভিযোগ করলে এর প্রতিকার করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। শুরুতেই তিনি বলেন, তাঁকে আগে সুযোগ দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে পেতেন।
তিনি বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন না আমি দেবো? আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয় এটা অশোভন।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের প্রথম দিন থেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে চাইলে ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে করুক।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নতুন করে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেননি এবং তাঁর বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়া উচিত।