নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল নাহিদা বৃষ্টির লাশ

যুক্তরাষ্ট্রের হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (এইচসিএসও) নিশ্চিত করেছে, ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির।
শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এ তথ্য জানান এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই শনাক্তকরণ যেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, তেমনি গভীর শোকও নিয়ে এসেছে। বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমন—উভয়েই ২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী—গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তকারীরা প্রথমে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে রক্তের চিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে। পরে কাছাকাছি একটি ডাস্টবিন থেকে লিমনের রক্তমাখা সামগ্রী পাওয়ার পর মামলাটি আরও জটিল রূপ নেয়। তদন্তে লিমনের বাসা ও সন্দেহভাজনের কক্ষে রক্তের দাগ এবং মানুষের দেহের আকৃতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহর গাড়িতেও বৃষ্টির রক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া তার অনলাইন কেনাকাটার তালিকায় বড় ব্যাগ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম ও দাহ্য পদার্থের তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনে হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত উদ্বেগজনক সার্চ হিস্ট্রিও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।
এর আগে ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি ব্যাগের ভেতর জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরদিন একই এলাকা থেকে আরেকটি ব্যাগে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ডের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও লিমন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগে ছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা একসময় একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার দিন পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৯১১-এ কল পাওয়ার পর সন্দেহভাজন হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, যাতে তাদের পরিবার শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারে।