ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে স্বচ্ছ নিয়োগ নীতির ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়োগ নীতিমালা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধারা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা—সব ক্ষেত্রেই যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অরাজনৈতিক ভিত্তি অনুসরণ করা হয়েছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। তার ভাষায়, “যোগ্যতা থাকলে নিয়োগে কোনো বাধা নেই, তবে রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির মতো বাংলাদেশেও পেশাদার ও দক্ষ জনবলকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। বয়সসীমা ও অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় অভিজ্ঞ জনবলকে বাইরে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়েও তিনি বলেন, বয়স বা সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন দেশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বয়সসীমা না থাকলেও তারা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক খাতকে টেকসই ও আধুনিক করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং পেশাদার ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলেও তিনি সংসদে আশ্বাস দেন।