মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
১৭ কোটি টাকার বিল ও অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে অভিযোগ

ই/এম সার্কেল-৩-এর প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরী বিতর্কে

ই/এম সার্কেল-৩-এর প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরী বিতর্কে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল-৩, ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৭ কোটি টাকার একটি বিলকে ঘিরে এসব অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অনুমোদিত বিলের অঙ্কের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। জনৈক আলদ্দিন ওয়াজেদ এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে ১৭ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৪ টাকার বিল অনুমোদন করা হলেও তার বিপরীতে সমপরিমাণ কাজ বা সরঞ্জাম সরবরাহের যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নথিতে দেখানো কিছু পণ্যের মূল্য বাজারদরের তুলনায় বেশি এবং বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিল অনুমোদনের সময় অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি, যাচাই ছাড়া পেমেন্ট প্রসেসিং এবং কিছু ফাইলের তারিখে অসঙ্গতি রয়েছে। এসব বিষয়কে অনিয়মের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ই/এম সার্কেল-৩-এর টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার নিয়মিতভাবে সুবিধা পেয়ে আসছেন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিপুল সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ১/১৪ ইকবাল রোডে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে চারতলা একটি ভবন এবং বনশ্রী আমুলিয়া হাউজিং এলাকায় জমির মালিক তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার বণ্টন, সরঞ্জাম ক্রয় এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণেও অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহবুবুল হক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ।”

গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি বা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ মিললে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বিল, তড়িঘড়ি অনুমোদন এবং যাচাই ছাড়া অর্থ ছাড়—এসবই বড় ধরনের ঝুঁকির লক্ষণ। তারা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এসব বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন