বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ ঘিরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তেজনা আইসিটি, অটোমোবাইল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম শীতের আগেই সুস্থ থাকতে খাবার, ত্বক ও মনের যত্ন নিন জিয়াউর রহমানের পরিবেশনীতি: খাল খনন থেকে পানির অধিকার এআইয়ের গতি বাড়াতে এম৬ চিপের ম্যাকবুক প্রো ও আইম্যাক আনল অ্যাপল ইসলামের দৃষ্টিতে কোন সময়ের স্বপ্ন সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?
  • জাপানের সঙ্গে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা: তারেক রহমান

    জাপানের সঙ্গে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা: তারেক রহমান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে বাস্তব সুযোগে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করতে চায় সরকার।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, তাঁর চলমান জাপান সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি লেখেন, ‘আসুন, একসঙ্গে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করি।’

    জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    তারেক রহমানের ভাষ্য, জাপানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি।

    এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে যৌথ সহযোগিতা এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।

    বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিগ-বি উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোর আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

    বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জাপান সফর ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করেছিলেন।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা ও সহযোগিতার জন্য তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে একটি গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দেশটির সরকার ও জনগণকে আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে রয়েছেন তারেক রহমান। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।

    মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতা জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে তাঁরা আলোচনার ফলাফল নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন