শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কালিয়াকৈরে ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, কাজ করছে ৩ ইউনিট কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দুর্গাপূজায় প্লাস্টিক, উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি এড়ানোর নির্দেশনা মারা গেছেন ঢাকা জেলা দলের কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদন্তের দাবি জামায়াতের ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?
  • দলে জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগ তুলে, এনসিপি নেতার পদত্যাগ

    দলে জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগ তুলে, এনসিপি নেতার পদত্যাগ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ বিস্তারের অভিযোগ তুলে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুর রহমান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দলের আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এতে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোট গঠন এবং জোটের পর এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।

    পদত্যাগপত্রে আব্দুর রহমান উল্লেখ করেন, এনসিপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। দলের ঘোষিত লক্ষ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় এবং বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল।

    তবে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোটের ফলে এনসিপির কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলটির আদর্শের বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই জোটের বিরোধিতা করে এনসিপির অনেক প্রতিষ্ঠাকালীন, মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতা দল ছেড়েছেন।

    আব্দুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না’—এমন প্রত্যাশা থেকেই তিনি এনসিপির সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে দ্বিচারিতা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিক জোটে পরিণত হয়েছে, যা তাঁর মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    পদত্যাগপত্রে সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আব্দুর রহমান। ঐতিহাসিক বিষয়ে মতামত দেওয়ার কারণে তাঁকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দল ও ব্যক্তির শাসনের ইতিহাসকে পৃথক অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। এর ফলে আদর্শিক প্রশ্নে এনসিপির স্বতন্ত্র অবস্থানও জামায়াতের বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে এনসিপির সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান আব্দুর রহমান। পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এনসিপির বোধোদয় হবে এবং ভবিষ্যতে দলটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    আব্দুর রহমান আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি সম্প্রসারণ করা হলে তাঁকে ওই কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

    চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হন আব্দুর রহমান। পরে সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলটির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায়ও তাঁর নাম ছিল। শরীয়তপুর-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এলেও ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তাঁকে আর মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

    আব্দুর রহমানের পদত্যাগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার। তাঁর দাবি, পুনর্গঠিত কমিটিতে জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি জানার পরই আব্দুর রহমান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

    সারোয়ার তুষার বলেন, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং দেশের বাইরে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুর রহমানকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মতামত প্রচার করতেও দেখা গেছে। এসব কারণে তাঁকে পুনর্গঠিত কমিটিতে রাখা হবে না—এটি জানার পর ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এনসিপিতে জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগের জবাবে সারোয়ার তুষার বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপিকে এক করে আব্দুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কোনো ইস্যু নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলে নির্বাচনের আগে অন্য নেতারা যখন দল ছেড়েছিলেন, তখনই আব্দুর রহমানের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন