রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কালিয়াকৈরে ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, কাজ করছে ৩ ইউনিট কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দুর্গাপূজায় প্লাস্টিক, উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি এড়ানোর নির্দেশনা মারা গেছেন ঢাকা জেলা দলের কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদন্তের দাবি জামায়াতের ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?
  • জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান।

    এ বছর ড. ইউনূসসহ চারজনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন ভারতের সেলফ এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের (সেবা) পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, তিনি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছেন, তা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরাই নন, ড. ইউনূস তাঁর কাজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তব্যে ড. ইউনূস তাঁর কাজের ৫০ বছর পূর্তির স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে।

    দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগানো, দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে উৎসাহিত করা হয়েছে।

    ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা নারীদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে যাঁরা নিজেদের সমস্যা বা প্রয়োজনের কথা সহজে বলতে পারতেন না, এখন তাঁরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন এবং তাঁরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক।

    ঋণগ্রহীতাদের সন্তানদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।” কর্মসংস্থান তৈরির জন্য নিজেদের উদ্যোগে ব্যবসা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    সামাজিক ব্যবসার ধারণা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, এ ধরনের ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন নয়, বরং সামাজিক সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ আবার স্বাস্থ্যসেবা খাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ড. ইউনূস বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করছে। অথচ শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ উদ্যোক্তা তৈরি করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে। ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।

    শিক্ষাক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে নতুন সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, হিলারি ক্লিনটন, গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ব্যবসা, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, দারিদ্র্য বিমোচন, উদ্যোক্তা

     


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন