রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কালিয়াকৈরে ইবনেসিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, কাজ করছে ৩ ইউনিট কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দুর্গাপূজায় প্লাস্টিক, উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি এড়ানোর নির্দেশনা মারা গেছেন ঢাকা জেলা দলের কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সময় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদন্তের দাবি জামায়াতের ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন অজুর পর নখ কাটলে কি অজু ভেঙে যায়? ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পরও ঝরতে পারে চুল, কী করবেন?
  • সেরা তরুণদের জাতিসংঘের সম্মেলনে পাঠাবে সরকার: মাহ্দী আমিন

    সেরা তরুণদের জাতিসংঘের সম্মেলনে পাঠাবে সরকার: মাহ্দী আমিন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে সরকার। এ জন্য আগামী বছর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।

    মাহ্দী আমিন বলেন, দেশজুড়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে নির্বাচিতদের সরকারি অর্থায়নে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, আগামী বছর থেকে এ প্রস্তাব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

    শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন বলেও জানান উপদেষ্টা। এর আওতায় দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, কিরাত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজসহ মেধা বিকাশমূলক বিভিন্ন আয়োজনে সরকারের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।

    ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, রাজনীতি, নীতি প্রণয়ন ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণরা দেশকে এগিয়ে নেবে।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দেশ নিয়ে তাঁদের সুন্দর স্বপ্ন ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সঠিক মূল্যবোধ, আদর্শ, মেধা, যোগ্যতা ও সততার চর্চা জরুরি।

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণরা রাজপথে আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। তাঁরা বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করেছে, যেখানে বাক্‌স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, সরকার এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিকের সফলতা বা আত্মবিকাশের জন্য বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। সমাজে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

    শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আজকের তরুণদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারক তৈরি হবেন। তাঁরা ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    নিজের শিক্ষার্থী জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহ্দী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে পড়ার সময় তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় বারুক কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের সদর দপ্তরেও যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।

    মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের ভাগ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দেশকে স্বনির্ভর করতে তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন জরুরি। নীতি প্রণয়নের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব শোনার জন্য আয়োজকদের আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান উপদেষ্টা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরাই আগামীর নেতা এবং দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেবেন। তরুণদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিতে সরকার পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন