বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%, মজুরি সূচক নেমেছে ৭.৯০ শতাংশে টেন্ডার থেকে বদলি-পদায়ন, গণপূর্তের বদরুল আলমকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ কে এই নেহা বোরা, ভারতের ছাত্র-যুব আন্দোলনের আলোচিত মুখ রসায়নে নোবেল পেলেন ফরাসি ও জাপানি দুই বিজ্ঞানী সুবিধাবঞ্চিতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০ একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন শিক্ষার অন্তরালে বিত্তবৈভব: সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে চাঞ্চল্য! ‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছেন’ ট্রাম্পের দাবি 
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

    বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আদায় এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। এর পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ভূমিকা রাখছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিনিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে বেশ দুর্বল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও আগের তুলনায় কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।

    ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কারণে ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সময়ে সীমিত রাজস্ব আহরণের কারণে সরকারের বড় ধরনের বিনিয়োগ ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের সক্ষমতাও চাপে পড়েছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে।

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনীতির আরও অবনতি ঠেকাতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আর বিলম্বের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি প্রায় থেমে গেছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।

    ব্যাংকিং খাতেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রাজস্ব আহরণেও বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব হিসেবে আদায় হচ্ছে, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে সামাজিক সেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ২০২৫ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কিছুটা সহায়তা দিলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

    সংস্থাটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে উপকারভোগী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা গেলে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, খাদ্য ভর্তুকির বিভিন্ন কর্মসূচি সমন্বয় এবং বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে যথাযথ লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে।

    এদিকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক বিভিন্ন চাপের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি বছর এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে দেশগুলোকে প্রবৃদ্ধির নতুন উৎসে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় নতুন ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এআই ব্যবহার শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এআই ব্যবহারের হার উন্নত অর্থনীতির তুলনায় এখনো কম হলেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারও জনসেবা ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে। এর উদাহরণ হিসেবে ভারতে কৃষকদের কাছে এআই-ভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশে এআই সহায়তায় রেটিনাল স্ক্রিনিংয়ের কথা উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

    বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে বলেন, এআই গ্রহণের মাধ্যমে শ্রম উৎপাদনশীলতা, রপ্তানির বৈচিত্র্য এবং জনসেবার মান বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে থাকা অবকাঠামোগত ও মৌলিক ঘাটতিগুলো আগে দূর করতে হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন