অপ্রতিম হত্যায় অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, উঠছে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য অন্য কোনো বিরোধ বা পূর্বপরিচয়ের বিষয় থাকলে সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা)।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডি কয়েকজন কিশোরকে আটক করেছিল। সে সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম। আটক কিশোরদের পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তাঁর ভাষ্য, ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আগে থেকে পরিচয় বা কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল কি না, তাও বের করা প্রয়োজন।
তবে ২০২৫ সালের ওই মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে সম্ভাব্য একটি যোগসূত্র হিসেবে তদন্তের প্রশ্নের মধ্যেই রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা ও মাদকসেবন নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও ড. নাহিদা বেগম সক্রিয় ছিলেন বলে তারা জানান।
ড. কামরুন নাহার বলেন, তিনি নাহিদা বেগমের সঙ্গে কথা বলেছেন। সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান নাহিদা। তাঁর মতে, অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে ২০২৫ সালের কোনো ঘটনার যোগসূত্র থাকলে সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
মানববন্ধনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। ড. কামরুন নাহার বলেন, প্রয়োজন হলে এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আইন সংস্কারের বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে।
এর আগে গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি অপ্রতিমের বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে কয়েকজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত চলছে।