রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে দুদক পল্লবীতে পার্কিং করা পরিস্থান পরিবহনের বাসে আগুন বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দোষ দিই না: রুমিন ফারহানা গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়: ১১ দল জাতিসংঘ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় পৃথক আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত হলো ৫ নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, অবকাশ থেকে আগেভাগেই ফিরলেন ট্রাম্প
  • আট মাসে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

    আট মাসে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এ সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছে বহু শিশু।

    আসকের পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে শিশু নিখোঁজের পর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর চার, গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় শারীরিক নির্যাতনে দুই এবং উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে একজনকে।

    আসকের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের পর নিহত ২৬ শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে শিশু। এর বাইরে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি।

    সম্প্রতি জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর শিশুটি আর বাড়ি ফেরেনি। দুই দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর তার এক সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পাবনা সদরেও নিখোঁজের সাত দিন পর ১০ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিহত শিশু

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শিশু নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এক পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তিন বোনের মধ্যে সিপার বয়স ছিল ১০ বছর, ইকরা ১৭ এবং সাইমা আক্তারের বয়স ২১ বছর।

    আগস্টে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তাঁদের ১২ বছরের ছেলে আয়ুশকেও হত্যা করা হয়।

    একই মাসে মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর নদী থেকে তাঁর এক বছরের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একই পরিবারের ১০, ৭ ও ২ বছর বয়সী তিন শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

    দেশে হত্যা মামলাও বাড়ছে

    পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ২৯৫টি হত্যা মামলা হয়েছে।

    শিশু হত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে হিসাবে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।

    শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে গত ২২ মে বিবৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান। ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউনিসেফ। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা ও কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়ানোর কথাও বলা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নৃশংসতা একটি সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখন প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের নিরাপদ জায়গা আসলে কোথায়। খেলার মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে থাকা—কোনো জায়গাতেই যেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

    তিনি বলেন, শিশুদের ওপর এ ধরনের সহিংসতার পেছনে অপরাধীদের বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি প্রতিশোধ বা পারিবারিক বিরোধও কাজ করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যকার বিরোধ বা হিংসার শিকারও হচ্ছে শিশুরা।

    অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবালের মতে, এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনতেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

    সূত্র: প্রথম আলো


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন