বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাংবাদিক এইচ আর শফিক গ্রেফতার, মুক্তির দাবিতে নিন্দার ঝড় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে: সারজিস বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা, সোনা-রুপার গহনার দাম বাড়ল সিজেপির আন্দোলনে অচল দিল্লি, বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ভিডিও ইস্যুতে উত্তাল শ্যামনগর, এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাংলাদেশ-চীন বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, করিডোর ও বিনিয়োগে গুরুত্ব ইউপি চেয়ারম্যান পদে স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জিম্বাবুয়ে সফর শেষে দেশে ফিরল বাংলাদেশ, এবার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া সৌদির সঙ্গে ৩০ বছরের পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন
  • ক্ষমতায় বিএনপি, তবু থামছে না নেতাকর্মী হত্যা

    ক্ষমতায় বিএনপি, তবু থামছে না নেতাকর্মী হত্যা
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকার গঠনের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত ২১ মে থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে অন্তত সাতজন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার ধরন ও পটভূমি বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় আধিপত্য, রাজনৈতিক বিরোধ, জমি, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

    বিভিন্ন ঘটনায় কোথাও প্রকাশ্যে গুলি, কোথাও কুপিয়ে বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বিএনপির নেতাদের। সর্বশেষ কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পেশাদার খুনি এবং পরিকল্পনা করে ঢাকা থেকে সেখানে গিয়েছিল।

    একই সময়ে নোয়াখালীর কবিরহাটে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা মো. ফারুক ওরফে শহীদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জেও গত দুই মাসে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা।

    এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ক্ষমতায় আসার সময় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

    বিএনপির দাবি, এসব ঘটনা দলীয় নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

    অন্যদিকে পুলিশ বলছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন স্বার্থের সংঘাতের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা সহিংসতার অন্যতম কারণ। তাদের ভাষ্য, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান না নিলে এ ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন