রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • দুই মাসে বেনাপোলে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউএইচওতে পুতুলের নিয়োগে জালিয়াতি ছিল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে, কমেছে ঋণ বিতরণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান, গ্রাহকদের পাল্টা কর্মসূচি সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান
  • বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কত? ভিন্ন পরিসংখ্যানে বাড়ছে বিভ্রান্তি

    বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কত? ভিন্ন পরিসংখ্যানে বাড়ছে বিভ্রান্তি
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আবারও আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব। সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় দেশের জনসংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। এই অমিল শুধু পরিসংখ্যানগত বিতর্ক নয়; উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    প্রতি বছরের মতো এবারও ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই দিবসটি উদযাপিত হয়। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ১১ জুলাইকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৯০ সাল থেকে এটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মোট জনসংখ্যা নয়, বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার সঠিক চিত্রও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের প্রায় সব ক্ষেত্রই নির্ভুল জনসংখ্যার তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

    বিভিন্ন জরিপে ভিন্ন চিত্র

    জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) ‘স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০২৫’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কর্মক্ষম বয়সের, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।

    একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ, আর ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ২ দশমিক ১ হলেও কিছু অঞ্চলে এখনও কিশোরী মাতৃত্বের হার উদ্বেগজনক।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার। আবার এসভিআরএস ২০২৩-এর প্রাক্কলনে এই সংখ্যা ১৭ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ একই দেশের জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে লাখ লাখ মানুষের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

    কেন এই পার্থক্য?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক আবু হাসানাত মো. কিশোয়ার হোসেন জানান, ইউএনএফপিএ সরাসরি ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহ করে না। তারা প্রজনন হারসহ বিভিন্ন জনসংখ্যাগত সূচকের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার প্রক্ষেপণ তৈরি করে।

    অন্যদিকে, বিবিএসও প্রতি বছর পূর্ণাঙ্গ গণনা পরিচালনা করে না। নমুনাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। ফলে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কিছুটা পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক।

    তার মতে, ২০২২ সালের জনশুমারির পর সময়ের ব্যবধানে নতুন জনসংখ্যার হিসাব করতে ইউএনএফপিএ বিভিন্ন সূচক ব্যবহার করেছে। আর বিবিএস নিয়মিত ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস জরিপের মাধ্যমে জনসংখ্যার ধারণা দিলেও পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ চিত্র পাওয়া যাবে পরবর্তী জনশুমারিতে।

    কোন তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য?

    বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কোনো একক সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও উৎস বিবেচনায় মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তথ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

    কেন নির্ভুল তথ্য জরুরি?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক জনসংখ্যার তথ্য ছাড়া কার্যকর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা, বিদেশি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনাসহ প্রায় সব নীতিনির্ধারণ নির্ভর করে নির্ভুল জনসংখ্যা তথ্যের ওপর।

    তাদের মতে, জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র জানা গেলে বাল্যবিবাহ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন