শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কিশোরদের টিকটক ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ অ্যালাবামায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফা কর্মসূচি বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আলোচনা নিউইয়র্ক সফরে ১১ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর : মাহদী আমিন দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৭ দিনের ছুটি বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী  ডিজিটাল ব্যাংকের পথে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ব্রিটজকে-জানসেনের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াকু সংগ্রহ
  • ঈদে ঢাকামুখী সৈয়দপুরের কসাইরা, তিন দিনে আয় লাখ টাকারও বেশি

    ঈদে ঢাকামুখী সৈয়দপুরের কসাইরা, তিন দিনে আয় লাখ টাকারও বেশি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলেই নীলফামারীর সৈয়দপুরে শুরু হয় এক ভিন্ন ধরনের কর্মব্যস্ততা। পশুর হাট জমে ওঠার পাশাপাশি রাজধানীমুখী প্রস্তুতি নিতে থাকেন স্থানীয় কসাইরা। প্রতিবছরের মতো এবারও শতাধিক কসাই ঢাকায় গিয়ে কোরবানির পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি ও ভাগ-বণ্টনের কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরের মাংস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কসাই পেশায় নিয়োজিত। বিশেষ করে বিহারি সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষ হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের চাহিদা দীর্ঘদিনের।

    সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি, যিনি ‘ছোটু নাদিম’ নামে পরিচিত, জানান, ঈদের আগের দিন তাঁর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল বিমানযোগে ঢাকায় যাবে। ইতোমধ্যে তাঁদের যাতায়াতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস কাটা ও হাড় আলাদা করার প্রতিটি ধাপে দক্ষতা প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ঢাকার অনেক পরিবার তাঁদের ওপর আস্থা রাখেন।

    তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে ঈদের সময় ঢাকায় গিয়ে কাজ করছেন। গত বছর চার সদস্যের দল নিয়ে রাজধানীতে ১২টি গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়েছিল। এবার দল বড় হওয়ায় কাজের পরিধিও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

    শুধু নাদিম কোরাইশিই নন, সৈয়দপুর পৌর মাংসহাটির আরও অনেক কসাই পৃথক পৃথক দল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁদের কেউ বিমানে, কেউ ট্রেনে কিংবা বাসে রাজধানীতে পৌঁছাবেন। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানায়, ঈদের আগে ঢাকাগামী ফ্লাইটে যাত্রী তুলনামূলক কম থাকায় অনেক সময় ভাড়া কমে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কসাইদের একটি অংশ বিমান ভ্রমণ বেছে নেন।

    কসাই মো. মিন্টু বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন না করে তাঁরা মূলত বাড়তি আয়ের আশায় ঢাকায় যান। তাঁর দাবি, সৈয়দপুরে একটি গরু জবাই ও মাংস কাটার জন্য যেখানে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, সেখানে ঢাকায় একই কাজের জন্য কয়েক গুণ বেশি আয় করা সম্ভব। ফলে ঈদের কয়েক দিনের কাজেই উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করেন অনেকে।

    স্থানীয় কসাই মোস্তাকিম জানান, তাঁর বাবাও বহু বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির কাজ করতেন। এখন তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। রাজধানীর অনেক পরিবার আগেভাগেই পরিচিত কসাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করে রাখেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো করে দেয়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের কসাইদের এই ঢাকামুখী যাত্রা শুধু একটি পেশাগত কার্যক্রম নয়, বরং কয়েক দশকের পুরোনো একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ঈদের ব্যস্ততা শেষে তাঁরা আবার নিজ এলাকায় ফিরে এসে দৈনন্দিন ব্যবসা ও পেশাগত কাজে যুক্ত হন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন