রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • জেলে নিখোঁজের ১৮০ দিন: তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা রোজিনা

    জেলে নিখোঁজের ১৮০ দিন: তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা রোজিনা
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. মিজান (৩২) গত ছয় মাস ধরে নিখোঁজ। মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। স্বামীর ফেরার পথ চেয়ে থাকতে থাকতে এখন ক্লান্ত স্ত্রী রোজিনা বেগম। এখন স্বামীর শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তিন সন্তানের ক্ষুধা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। 

    নিখোঁজ মিজান ওই এলাকার নান্নু মোল্লার ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিদিনের মতো জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়েছিলেন মিজান। কিন্তু সেই যাওয়াই ছিল তার শেষ যাওয়া। এরপর অনেক তল্লাশি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। 

    সরেজমিনে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মিজানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক বিষণ্ণ চিত্র। জীর্ণ ঘরে তিন কন্যাসন্তান ফাতেমা, আয়েশা ও বিবি পাবিয়াকে নিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন রোজিনা। মেজাজ হারিয়ে ফেলা দারিদ্র্য এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। 

    রোজিনা বেগম বলেন, 'ছয় মাস ধরে মানুষজন যা সাহায্য দিছে, তা দিয়ে কোনোমতে টিকে আছি। কিন্তু এখন আর কেউ আগের মতো এগিয়ে আসে না। বড় মেয়ে ফাতেমার বয়স ১৩ বছর। একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে বড় হওয়া মেয়েটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আমি এখন অন্ধকার দেখছি।' 

    প্রতিবেশীরা জানান, মিজান ছিলেন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। তার আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার পর গ্রামবাসী শুরুতে সাধ্যমতো সহায়তা করলেও সময়ের সাথে সাথে সেই প্রবাহ কমে গেছে। পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

    এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো বড় ধরনের সহায়তা পৌঁছেনি এই পরিবারের কাছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য বলে অভিযোগ পরিবারের। 

    উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। পরিবারটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে সমাজসেবা দপ্তর থেকে দ্রুতই প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।' 

    উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিখোঁজ জেলের যদি সরকারি 'জেলে কার্ড' থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবার বড় অংকের আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবে। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছি। 

    তবে সরকারি দপ্তরের এই আশ্বাস কবে বাস্তব রূপ পাবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন রোজিনা। আপাতত তিন মেয়ের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়াই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন