বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ইরানকে সতর্ক করে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি ট্রাম্পের

ইরানকে সতর্ক করে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি ট্রাম্পের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, নৌ অবরোধের কারণে ইরান ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছেছে বলে তেহরান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালি ও নিজস্ব বন্দরগুলোর ওপর থেকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নৌ অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি চলছে যা গত সপ্তাহে ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস সোমবার নিশ্চিত করে যে, ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের দেয়া একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। কোনো পক্ষই প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানান। 
 
এরপর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নতুন করে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান এইমাত্র আমাদের জানিয়েছে যে তারা ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে। তারা চায় আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দিই’, কারণ তারা তাদের নেতৃত্বের পরিস্থিতি গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে (যা আমার বিশ্বাস, তারা করতে সক্ষম হবে!)।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের প্রস্তাবটিকে “আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন, তবে বলেছেন যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে অবশ্যই বিরত রাখতে হবে। তেহরান ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে।

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেছেন, কোনোভাবেই প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা টোল গ্রহণ মেনে নেয়া হবে না। মার্কো রুবিওর কথায়, ‘হরমুজ প্রণালীকে ইরান অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কোনোভাবেই এই আন্তর্জাতিক জলপথে নিয়ন্ত্রণ বা টোল নেয়া মেনে নেয়া হবে না।’ 
 
এর মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরে যাত্রা রোধে এখন পর্যন্ত ৩৯টি জাহাজকে বাধা দেয়া বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ৩৫টি ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন অর্থবিভাগ জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত।
 
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, তাদের দেশ এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানান, শত্রু যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সরঞ্জাম, পদ্ধতি ও রণক্ষেত্রে কঠিন জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের শত্রুদের প্রতি কোনো আস্থা না থাকায়, যুদ্ধের সময়ের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিশ্চিত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
 
এদিকে সৌদি আরবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের শীর্ষ বৈঠকে নেতারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সতর্ক করেছে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন