বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্কুল চলাকালীন যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পৌঁছেছে জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় পদক্ষেপ: সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি ও অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায় সাবেক সংসদ সদস্যের স্ত্রীর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা আজ নির্ধারণ হচ্ছে জ্বালানি তেলের নতুন দাম হারের বৃত্ত ভাঙতে সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ পবিত্র ওমরাহ করতে জেদ্দায় নাহিদ ইসলাম দেশে শেষ ৬ টিকার মজুত, ঝুঁকিতে শিশুর স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিরোধীদলীয় নেতার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ বিশ্বকাপের টিকিট এখনো অনিশ্চিত যেসব দলের
  • বিদ্যুৎ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধ

    বিদ্যুৎ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের বিদ্যুৎ খাতে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) ও বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটাতে দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।

    সরকারি সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩ হাজার ৮৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের জন্য আরও ১ হাজার ৬২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা যথাক্রমে মার্চ মাসের ৮ ও ১৫ তারিখে ছাড় দেওয়া হয়।

    আইনি জটিলতায় আটকে ছিল ভর্তুকি

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) আগে থেকেই এই ভর্তুকি পরিশোধের জন্য অনুরোধ জানালেও বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি কোনো ব্যয় বা প্রস্তাব বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

    ট্যারিফ অনুমোদন না থাকায় স্থগিত ছিল ভর্তুকি

    গত বছরের মে মাস থেকে বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলসহ মোট আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদিত না থাকায় ভর্তুকি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন পেলেও এই দুটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

    তথ্য অনুযায়ী, বিসিপিসিএলের আগস্ট-ডিসেম্বর সময়ের ভর্তুকি ছিল ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার বেশি এবং একই সময়ে বিআইএফপিসিএলের ভর্তুকি ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। এভাবে মোট বকেয়া দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা পরে চলতি বছরের দুই মাসের ভর্তুকি যুক্ত হয়ে ৫ হাজার ৪৯৬ কোটিতে পৌঁছায়।

    বৈদেশিক ঋণ জটিলতায় বিলম্ব

    এই দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল বৈদেশিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়া। ফলে ট্যারিফ সংশোধন করে তা মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এ বিষয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্ব

    রমজান, সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধ না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এই বাস্তবতা বিবেচনায় জনস্বার্থে অর্থ উপদেষ্টা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন।

    ভবিষ্যতে ভর্তুকি কমার সম্ভাবনা

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলের ক্ষেত্রে রিটার্ন অন ইক্যুইটিসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বয় করে ট্যারিফ কমানোর সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যতে সরকারের ভর্তুকির চাপ কমে আসবে।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগ যৌথভাবে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন