সাহসী খেলায় ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের নারী দল

নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় এক দিন ছিল। কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভিড় করেছেন হাজারের উপরে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের র্যাংকিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২। এই বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ৯০ মিনিট ধরে পজিটিভ ফুটবল খেলেছে। ডিফেন্সে সতর্ক থাকা সত্ত্বেও মিডফিল্ডে বল দখলে রাখার চেষ্টা ও আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো। চীনের খেলোয়াড়রা প্রযুক্তি ও ফিজিক্যালিতে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের ফিটনেস এবং লড়াকু মান প্রশংসনীয়।
প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে চীনের ওয়াং শুয়াং গোল করেন। এক মিনিট পর ঝাং রুইয়ের শটে চীনের দ্বিতীয় গোল আসে। বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার প্রথমে নার্ভাস ছিলেন, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের বিশ মিনিটে একক দক্ষতায় নিশ্চিত গোল বাঁচান।
দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি পরিবর্তন করে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখা হয়। ৮৫ মিনিটে সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমান জাতীয় দলে অভিষেক হয়। চীনের তিনজন পরিবর্তন হলেও গোল ব্যবধান আর বাড়তে পারেনি। বাংলাদেশ VAR প্রযুক্তির সুবিধাও পেয়েছে; এক চীনের গোল বাতিল হয় VAR-এর মাধ্যমে।
ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার চোখ ধাঁধানো একক আক্রমণ। চীনের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে, ৩০ গজ দূর থেকে শট প্রায় গোল হয়ে যেত। এটি হলে সম্ভবত টুর্নামেন্টের সেরা গোলের স্বীকৃতিও পেত।
শেষ পর্যন্ত চীন ২-০ গোলে জয়লাভ করলেও বাংলাদেশ তাদের প্রথম এশিয়ান কাপ অভিষেক ম্যাচে সাহসী এবং লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা আগামী ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।