ইফতারে চিনি-ভরা ফ্যান্সি শরবত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে

পবিত্র রমজান মাসে সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে আমরা অনেকেই পিপাসা মেটাতে নানা ধরনের রঙিন ও বাহারি শরবতের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে শরবতের আড়ালে আমরা আসলে শরীরে বিপুল পরিমাণ ‘চিনি ও ফ্লেভার’ প্রবেশ করাচ্ছি। বর্তমানের আরামদায়ক আবহাওয়া বা শীতকালীন রোজার সময় পিপাসা মেটাতে সাধারণ পানির কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
শরবতের নামে ‘প্রতারণা’ থেকে সাবধান
ইফতারে আমাদের দেশে দুটি পানীয় অত্যন্ত জনপ্রিয়—ট্যাং এবং রুহ আফজা। স্বাস্থ্য সচেতনরা একে এক প্রকার ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করছেন। কারণ, ফ্লেভারড এই ড্রিংক পাউডারগুলোর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই হলো চিনি। শরবতের নামে এসব রঙিন পানীয় আসলে শরীরে ক্যালরি বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। বরং ইফতারের পর যে শরীর ঝিমঝিম করা বা ‘শরীর ভেঙে আসা’র অনুভূতি হয়, তার অন্যতম কারণ হলো রক্তে হঠাৎ চিনির মাত্রার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে পিপাসা মেটাতে লেবু, লবণ ও সুইটেনার দিয়ে প্রস্তুত এক বা দুই গ্লাস শরবত যথেষ্ট। এছাড়া দেশের প্রচলিত কিছু প্রাকৃতিক পানিও পিপাসা মেটাতে কার্যকর। এর মধ্যে রয়েছে:
- ইসবগুলের ভুষি ও তোকমা: এটি পেট ঠান্ডা রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ তৃষ্ণা মেটায়।
- আখের গুড়: চিনির বদলে প্রাকৃতিক চিনির উৎস হিসেবে আখের গুড় দারুণ কাজ করে।
- টক দইয়ের শরবত বা লাচ্ছি: প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমে সাহায্য করে।
- ডাবের পানি: খনিজ লবণের জোগান দিতে ডাবের পানির জুড়ি নেই।
তবে বাজারে পাওয়া ফ্লেভারড ড্রিংক পাউডারের ৮০–৯০ শতাংশই মূলত চিনি, যা শরীরের জন্য উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইফতারে ফ্যান্সি বা প্রক্রিয়াজাত শরবত এড়িয়ে চলা উচিত।
একটি সুস্থ ও আরামদায়ক ইফতারের জন্য ফ্যান্সি শরবতের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করে প্রাকৃতিক ও সহজ পানীয় খাওয়া উত্তম। এতে রোজাদারের শরীরও বেশি শক্তিশালী থাকে এবং পেটের অস্বস্তি কম থাকে।
দৈএনকে/জে, আ