বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণে মা ও শিশুর সাফল্যময় জন্ম

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণে মা ও শিশুর সাফল্যময় জন্ম
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তারা ‘মোনোঅ্যামনিওটিক টুইন’ (Monoamniotic twins), সংক্ষেপে যাদের ডাকা হয় ‘মোনো-মোনো’ টুইন। একই গর্ভ, একই পানির থলি, এমনকি মাঝখানে নেই কোনো সুরক্ষামূলক পর্দা। এমন বিরল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের চ্যালেঞ্জ জয় করে সম্প্রতি জন্ম নিল দুই সুস্থ কন্যা শিশু। জন্মের পরপরই একে অপরের হাত শক্ত করে ধরার সেই দৃশ্য কেবল চিকিৎসকদেরই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছে লাখো মানুষের হৃদয়।

বিরল এক অস্তিত্বের লড়াই
সাধারণ যমজ শিশুদের ক্ষেত্রে গর্ভে আলাদা আলাদা পর্দা বা পানির থলি থাকে। কিন্তু ‘মোনো-মোনো’ যমজদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে দুই শিশুর নাড়ি একই পানির থলিতে ভাসতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ শিশুদের নড়াচড়ায় নাড়ি একে অপরের সাথে জড়িয়ে যাওয়ার (Cord Entanglement) প্রবল আশঙ্কা থাকে। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারত বড় ধরনের বিপর্যয়।

৫৭ দিনের শঙ্কা ও প্রতীক্ষা
সন্তানদের সুস্থ রাখতে মা কাটিয়েছেন টানা ৫৭ দিন কঠোর ‘বেড রেস্ট’ বা বিছানাবন্দী অবস্থায়। প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে অজানা আতঙ্ক আর নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে। সামান্য অসতর্কতা বা অবহেলাই হতে পারত প্রাণঘাতী। অবশেষে একটি পরিকল্পিত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে পৃথিবীতে আসে দুই বোন।

May be an image of hospital

জন্মের পর সেই ‘নিঃশব্দ রহস্য’
অপারেশন থিয়েটারে শিশুদের যখন পাশাপাশি রাখা হলো, তখন সৃষ্টি হলো এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। পৃথিবীর আলোয় এসেই একজন হাত বাড়িয়ে অন্যজনের হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। যেন তারা একে অপরকে বলছে—গর্ভের অন্ধকারে যে লড়াই আমরা একসাথে করেছি, পৃথিবীর পথেও আমরা এভাবেই পাশে থাকব। প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসকদের মতে, এটি কেবল আবেগ নয়, এটি মহান স্রষ্টার সৃষ্টির এক পরম রহস্য।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও বার্তা
এই ঘটনাটি কেবল একটি সফল জন্মের গল্প নয়, বরং উচ্চঝুঁকির গর্ভধারণ নিয়ে এক বিশেষ সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন:

  • নিয়মিত চেকআপ: গর্ভকালীন সময় নিয়মিত চেকআপের কোনো বিকল্প নেই।
  • বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান: উচ্চঝুঁকির গর্ভধারণ শনাক্ত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • সচেতনতা: গর্ভাবস্থায় সামান্য অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে দেরি না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মায়ের অদম্য ধৈর্যের কাছে হার মেনেছে সব ঝুঁকি। সুস্থ সন্তানের মুখ দেখে আজ সেই মায়ের চোখে কেবলই তৃপ্তির জল। এই শিশুদের একে অপরের হাত ধরার দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি জন্মই এক একটি ছোটখাটো অলৌকিক ঘটনা।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন