মহিলাদের জন্য সতর্কবার্তা: সিস্ট নয়, ক্যানসারও হতে পারে

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার এখন মহিলাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়। এর প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় বোঝা যায় না, যার ফলে অনেক মহিলাই এটিকে ওভারিয়ান সিস্ট-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তবে দু’টি রোগ সম্পূর্ণ আলাদা—ওভারিয়ান সিস্ট ডিম্বাশয়ে হয়, আর এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার হয় জরায়ুর ভিতরের আস্তরণে।
সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আগে প্রতিক্রিয়া নেয়া সম্ভব হলে চিকিৎসা ফলপ্রসূ হয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত যন্ত্রণা বা অস্বাভাবিক ব্যথা
ভারী রক্তপাত বা অনিয়মিত ঋতুস্রাব
দীর্ঘমেয়াদি পেটের অস্বস্তি
এই লক্ষণগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দিলে, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করে বিপদ এড়ানো সম্ভব। মহিলাদের সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো জরুরি, বিশেষ করে যারা পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে।
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার ও সার্ভিক্যাল ক্যানসারও কিন্তু এক নয়। এটিও বুঝতে হবে। সার্ভিক্যাল বা জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে এখন সচেতনতা অনেক বেশি। এর টিকাও চলে এসেছে। অথচ এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার নিয়ে ততটা প্রচার নেই। এটিও যথেষ্টই বিপজ্জক। দু’টিই মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের রোগ। জরায়ুর ভিতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। ওই অংশের কোষগুলির অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হলে, তখন জরায়ুর আস্তরণের ভিতরে টিউমার তৈরি হয়। সেই টিউমার ক্যানসারে পরিবর্তিত হতে পারে। এটিই হল এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার। আর জরায়ুর নীচের অংশে ক্যানসার হলে তাকে বলে সার্ভিক্যাল ক্যানসার।
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের লক্ষণ চেনা খুব জরুরি
৪৫ থেকে ৫২ বছর পর্যন্ত মেনোপজ়াল এজ ধরা হয়। কোনও মহিলার ৪৫ বছর বয়সের পরে যদি ঋতুস্রাব এক বছর বন্ধ থাকে, তা হলে তাকে রজোনিবৃত্তি বলে ধরে নেওয়া হয়। রজোনিবৃত্তির পরেও যদি ঋতুস্রাবের মতোই রক্তপাত হতে থাকে, তা হলে সেটি স্বাভাবিক নয়। অনেকেই একে সিস্ট ভেবে বসেন, কিন্তু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, ডিম্বাশয়ে সিস্ট হলে তলপেটে খুব ব্যথা হবে, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসবে, পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেবে। আর জরায়ুর ভিতরে ক্যানসার হলে কোমর, তলদেশ বা শ্রোণিচক্রে একটানা ব্যথা হতে থাকবে। অধিকাংশ মহিলাই ব্যথাটা অনুভব করেন কোমর ও নিতম্বের মধ্যবর্তী অঞ্চলে। পায়ের উপরের অংশেও ব্যথা হতে পারে। পরিবারে যদি ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, ওজন অতিরিক্ত হয়, হরমোনের থেরাপির জন্য ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খান, তা হলে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভাল।
কী কী পরীক্ষা করিয়ে নেবেন?
ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান চল্লিশের পরেই করিয়ে রাখা ভাল। জরায়ুর ভিতরের স্তরে কোনও টিউমার তৈরি হচ্ছে কি না, তা বোঝা যাবে আগে থেকেই।
এরই সঙ্গে হিস্টেরোস্কোপি পরীক্ষা করাতে হবে। এতে ছোট ক্যামেরা জরায়ুর ভিতরে ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়।
এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসিও গুরুত্বপূর্ণ। পিসিওএস থাকলে বা ওজন খুব বেশি হলে এবং ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে গেলে এই পরীক্ষা করাতেই হবে।
আলট্রাসাউন্ড করে যদি দেখা যায়, যে ক্যানসার সত্যিই ছড়িয়ে পড়েছে অর্থাৎ, রোগী স্টেজ ২ বা স্টেজ ৩-এ আছেন, তখন ক্যানসার আর কোন কোন অঙ্গে ছড়িয়েছে তা জানতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়। তার পর অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।