শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: কেন হয় এবং কতটা বিপদজনক?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: কেন হয় এবং কতটা বিপদজনক?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

গর্ভাবস্থায় অনেক নারী প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিসের সমস্যার সম্মুখীন হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নামে পরিচিত এবং এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

কেন হয়?
গর্ভাবস্থায় শরীরে কিছু বিশেষ হরমোন তৈরি হয়, যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য জরুরি। কিন্তু এই হরমোনগুলো একই সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে শরীরের কোষগুলো ঠিকমতো গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত প্লাসেন্টা থেকে নিঃসৃত হরমোনই এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মূল কারণ।

সব গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয় না। যাদের আগে ওজন বেশি ছিল, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, আগের গর্ভধারণে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয়েছে, বয়স ৩০ বছরের বেশি, অথবা যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) আছে - তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

এটি কতটা বিপদজনক?
এই ডায়াবেটিস কতটা বিপদজনক, সেটি নির্ভর করে নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তার ওপর। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া এবং প্রসবের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় সিজারিয়ান অপারেশনের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

তবে শিশুর জন্যও ঝুঁকি কম নয়। রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শিশুর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক প্রসবে সমস্যা তৈরি করে। জন্মের পর শিশুর রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা ভবিষ্যতে স্থূলতা ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ভয় পাবেন না
তবে আশার কথা হলো - সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে এবং নিয়মিত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, হালকা ব্যায়াম ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন ব্যবহার করলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মের পর মায়ের রক্তে শর্করা স্বাভাবিক হয়ে আসে, যদিও ভবিষ্যতে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা থেকে যায়।

তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ, নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় সচেতনতা - এই তিনটি বিষয়ই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন