বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

তামাক থেকে রাজস্বের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি: স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত সচিব

তামাক থেকে রাজস্বের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি: স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত সচিব
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও তামাকজনিত রোগ, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অকাল মৃত্যুর কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা—যা রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এই বাস্তবতা সামনে রেখে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং সদ্য জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসি) আয়োজিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি পরিবার ভেঙে যাওয়ার, সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ার এবং অগণিত মানুষের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার ক্ষতি। প্রতিদিন গড়ে ৫৬৪ জন মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এত মানুষ কোনো বড় দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হতো। কিন্তু তামাকের মৃত্যু নীরবে আসে, আর আমরা ধীরে ধীরে সেটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।

এই ভয়াবহ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার গত ৩০ ডিসেম্বর সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি আইন নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে সরকারের দৃঢ় ও নীতিগত অঙ্গীকার।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে তামাক বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমা, নাটক, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাক ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দোকানে তামাকজাত পণ্যের রঙিন প্যাকেট প্রদর্শনও আর করা যাবে না।

তরুণদের লক্ষ্য করে বাজারজাত করা ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান শেখ মোমেনা মনি। তিনি বলেন, এসব পণ্য নতুন প্রজন্মকে নেশার পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং তা সমাজের জন্য বড় হুমকি।

আইনের সফলতা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল আইন করলেই হবে না—বাস্তবে তা কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতে হবে, নীতিনির্ধারকদের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ভয় দেখিয়ে নয়, বরং সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে শুধু মোবাইল কোর্ট দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। মানুষ নিজে থেকে ‘না’ বলতে পারলেই প্রকৃত অগ্রগতি হবে।

তিনি আরও জানান, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বর্তমানে ৩৪টি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। স্কুলে ধূমপান নিষিদ্ধ, শিক্ষক নিয়োগে ধূমপায়ীদের নিরুৎসাহিত করা, পাঠ্যবইয়ে তামাকবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্তি, তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ এবং রেলওয়েকে ধূমপানমুক্ত করার উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন