ইবিতে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে তারা এ মানববন্ধন করে।
এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেয়। এসময় আগামীকাল বিকাল চারটার মধ্যে সকল ব্যর্থতার দায় শিকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। এর মধ্যে প্রক্টরকে অপসারণ না করা হলে বুধবার উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘সাজিদ হত্যার পর সিআইডি ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টেও বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে, কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কার্যক্রম সচল থাকলেও সাজিদের হত্যার বিচার হচ্ছে না। ১৫ জুলাই আইসিটি সেল থেকে সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছিল কেন—এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাওয়া, রুমের চাবি সাদ্দাম হোসেন হলের কোনো এক ছাত্রের কাছে থাকার কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। সাজিদের মৃত্যুর পর প্রশাসন শুধু তালবাহানা করে যাচ্ছে। এই নয়-ছয় প্রশাসন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর চলতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল বিকাল চারটার মধ্যে সকল ব্যর্থতার দায় শিকার করে প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামানকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তাহলে প্রশাসন কর্তৃক তাকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় বুধবার বেলা এগারোটায় আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করবো।’
এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের আল্টিমেটাম ইবি ছাত্রদলের কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়।’
এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সিস্টেম আইসিটি সেল থেকে প্রক্টর অফিসে স্থাপনের বিষয়ে ১৫ জুলাই চিঠি ইস্যু করা হলেও আমরা চিঠি পেয়েছি ১৮ জুলাই। এছাড়া এখনো আইসিটি সেল মনিটরিং সিস্টেম প্রক্টর অফিসকে বুঝিয়ে দেয় নি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের দায় হল প্রভোস্টের। সাজিদ ইস্যুতে সিআইডিকে আমার দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা যেদিন চাইবে না এক মুহূর্তও আমি এ পদে থাকবো না।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি একান্তই ছাত্রদল আহ্বায়কের ব্যক্তিগত। আমরা এই দাবির সাথে একমত না। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। কোন অদৃশ্যবলে বিচার আটকে আছে তার উদঘাটন চাই।
মানববন্ধনের আয়োজক বোরহান উদিন বলেন, ‘আমি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির সাথে একমত না। শুধু প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে লাভ নাই, চাইলে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগ চাইতে হবে। তাছাড়া আজকে আমাকে প্রোগ্রামের আয়োজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে আমি প্রোগ্রামের আয়োজক ছিলাম না। আমি শুধু প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, গতবছরেে ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।