মানহীন নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকলে ‘মানহীন’ নির্বাচন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ‘মব’ ও ‘ট্যাগিং’-এর ভয়ে স্বাধীনভাবে বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামীম হায়দার পাটোয়ারী এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জাতীয় পার্টির ১৩ জন প্রার্থীর আপিলের মধ্যে ১১ জনের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান এবং বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেননি। অতীতে ছোটখাটো ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকলেও এবার কারিগরি কারণে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও উল্লেখ করেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তারা মূলত ‘মব’-এর ভয়ে এবং ‘ট্যাগিং’-এর চাপের কারণে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেউ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলেই ‘দোসর’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে দ্বিধা ও ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনসহ প্রশাসন কঠোর না হলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখলের ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তফসিল চলাকালীনও প্রশাসন এ ঘটনা রোধে ব্যর্থ হয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি থাকলেও মূল অংশ জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ, এবং প্রায় ২২০–২৪০টি আসনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে।
ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে তিনি আশাবাদী হয়ে বলেন, “সুষ্ঠু পরিবেশ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হলে জাতীয় পার্টি ৪০–৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে।” এছাড়া তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান।