বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

10 টি খারাপ অভ্যাস যা আপনার কিডনি ধ্বংস করে

10 টি খারাপ অভ্যাস যা আপনার কিডনি ধ্বংস করে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন


কিডনি হলো শরীরের সেই নিরব কর্মী, যা শব্দ না করেই প্রতিদিন রক্ত পরিশোধন করে, বিষাক্ত বর্জ্য বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হরমোন উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলায়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অজান্তেই গড়ে ওঠা কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস কিডনিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অভ্যাস সময়মতো না বদলালে কিডনি রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।

নীরব ক্ষতির শুরু যেসব অভ্যাস থেকে
ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির জন্য বড় হুমকি। মাঝে মাঝে NSAIDs গ্রহণ নিরাপদ হলেও নিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিডনির রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। তাই ব্যথানাশক খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ কিডনির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। লবণের বদলে মসলা ও প্রাকৃতিক হার্বস ব্যবহারে স্বাদও থাকবে, ঝুঁকিও কমবে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার কিডনির আরেক নীরব শত্রু। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ফসফরাস কিডনির ক্ষতি ত্বরান্বিত করে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে DASH ডায়েট কার্যকর হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পানি কিডনিকে বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন।

ঘুমের ঘাটতিও কিডনির কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। নিয়মিত কম ঘুম হলে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। সুস্থ কিডনির জন্য পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম অপরিহার্য।
অতিরিক্ত মাংস বা প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এতে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যা কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফল ও সবজির সঙ্গে সুষমভাবে প্রোটিন গ্রহণ করাই নিরাপদ।
চিনি বেশি খাওয়ার অভ্যাসও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শুধু মিষ্টি নয়, সস, সিরিয়াল, পাউরুটি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারেও লুকানো চিনি থাকে, যা ওজন বাড়িয়ে ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

ধূমপান কিডনির জন্য সরাসরি ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের মূত্রে প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে, যা কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ কিডনি রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। দিনে চার গ্লাসের বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে, আর ধূমপান থাকলে তা পাঁচগুণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
দীর্ঘসময় একটানা বসে থাকা আধুনিক জীবনের আরেকটি নীরব বিপদ। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে কিডনির ক্ষতি করে। নিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়ক।
 

কিডনি রক্ষা করবেন যেভাবে
কিডনি রোগ অনেক সময় কোনো আগাম লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তবে সচেতন জীবনধারা এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ও গভীর ঘুম এবং দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম এই চারটি অভ্যাসই হতে পারে আপনার কিডনির সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন