রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: জুবাইদা রহমান গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে সাইবার বুলিং বিষয়ে আইআরআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক তিশার লাজুক হাসি নজর কাড়ল ভক্তদের ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, সৎ সাহস থাকলে আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: ১০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় : মীর শাহে আলম ফ্রান্সের সিনেটরদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদর বৈঠক জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ পাবেন ৫ হাজার
  • ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস প্রায় বিলুপ্তির পথে!   

    ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস প্রায় বিলুপ্তির পথে!   
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শীতের সকালের আবছা আলো কুয়াশা মিলে প্রকৃতি একটি মোহনীয় ও স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে। কনকনে শীতের মধ্যে খেজুরের রস নামাতো গাছিরা। মাটির হাড়ি ও কলসিতে ভরা ছিল কাচা খেজুর রস।ঘ্রানে ভরে যেত খেজুর গাছের আশপাশ। মনে হতো শীতের সকাল মানেই খেজুর রসের পিঠা,পায়েশের সিজন। এখন আর আগের মতো সেই আমেজ নেই।

    রস এবং রসের মাটির হাড়ি আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে খেজুর রসের ঐতিহ্য। আগের মতো চোঁখে পরে না গ্ৰাম ও শহরের হাট-বাজারে রস বিক্রির সেই আমেজ। এখন আর গাছিদের ঘরে ঘরে নেই খেজুর রসের পিঠা -পায়েস এবং কাঁচা রস খাওয়ার উৎসব। এখন শুধু নাম মাত্র চলে খেজুরের রসের ভেজাল গুড়ের পিঠা- পায়েস। ঋতু বৈচিত্র্যের পালাক্রমে চলতো শীত।

    শীতকালীন খাদ্য তালিকায় প্রথমে আসে অতি প্রিয় লোভনীয় খেজুরের রস। কিন্তু বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে আগের মতো খেজুর গাছ নেই, হ্রাস পেতে পেতে আজ তা প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে,গাছিদের সংকট দেখা যাওয়ায় সব মিলিয়ে খেজুরের রসের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজন মতো রস না পাওয়ার জন্য গাছিদের অভাব ও ইট ভাটার আগ্ৰসনকে দ্বায়ী করছে পরিবেশ বাদীরা।

    এলাকাবাসীর কিছু পুরনো গাছিদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়-বাংলা আশ্বিন মাস থেকেই সাধারণত রস সংগ্রহ শুরু হয়।তবে পৌষ ও মাঘ মাসে সবচেয়ে বেশি রস সংগ্রহ করা হয়। কারন এই দুই মাসে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে তাই রস ও বেশি পাওয়া যায়। বরিশালের লাকুটিয়া সরকের ভাঙ্গার পুল সারসির স্থানীয় আব্দুর রহিম এক গাছির সাথে আলাপ কালে আরও জানা যায়,প্রায় চার বছর আগেও ছয়টি গাছ থেকে দৈনিক প্রায় ৪০ লিটারের মতো রস সংগ্রহ করা যেত,আর গত দুই বছর আগেও তা হ্রাস প্রায় ২০-২৫ লিটারে দাঁড়িয়েছে। এক হাঁড়ি রস বিক্রি হতো ২০০-২৫০ টাকা।

    এখন প্রতি হাঁড়ি রস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এখন আর সেই খেজুর গাছ নেই। দুই একটা গাছ থাকলেও তেমন রস হয় না।আগে প্রচুর খেজুর গাছ ছিল বিভিন্ন এলাকা, কিন্তু পরিবেশ দূষণ ও গাছগুলো লাকরি হিসেবে ইট ভাটায় বিক্রি করে দেয়ায় খেজুরের গাছ হারিয়ে যাওয়ার পথে।

    প্রাচীন কাল থেকেই খেজুরের রসের সাথে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একে অপরের ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সরকারি- বেসরকারি ভাবে খেজুর গাছ রোপণের জন্য সকল কে আগ্ৰহী হতে হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন