আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। সেই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আজ, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর)
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের এই শেষ ম্যাচটি দুপুর দুইটায় শুরু হবে। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা থাকায়, আজকের ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অলিখিত ফাইনালে।
টাইগারদের জন্য এটি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ। এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডও চাইবে বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে। ফলে আজকের ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
টি–টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলে এসেছে একটি পরিবর্তন। ফিরেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী—যাকে ঘিরেই লিটন দাসের সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন ছিল সবচেয়ে আলোচনামুখর। প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে শামীমকে রাখা হয়নি, আর তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অধিনায়ক লিটন। আশ্চর্যের বিষয়, শামীমের পরিবর্তে যিনি জায়গা পেয়েছিলেন, সেই মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে আবার প্রথম দুই ম্যাচের একাদশেও দেখা যায়নি।
স্কোয়াডে একজনকে যোগ করা হলেও একাদশে বড় ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষায় যেতে চায় না বাংলাদেশ। বোলিং কোচ শন টেইটও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানালেন, সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস অর্জন করাই দলের মূল লক্ষ্য।
শন টেইট বলেন,
‘নিজেদের কাজ জটিল করার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে। প্রতিটি জয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’
তিনি আরও বলেন,
‘গত ম্যাচে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, সেটাই আগামী ম্যাচে টেনে নিতে চাই। বিরতির আগে জিতলে সেটা আমাদের জন্য সেরা ব্যাপার হবে। অযথা বাড়তি ভাবনার প্রয়োজন নেই।’
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আজই বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর বিপিএল ঘিরেই খেলোয়াড়দের ব্যস্ততা থাকবে—যেখান থেকে উঠে আসতে পারেন নতুন মুখও। তাই আজকের ম্যাচটাই স্কোয়াড পরীক্ষার শেষ আন্তর্জাতিক সুযোগ।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের জন্যও সিরিজটি ছিল বিশ্বকাপ প্রস্তুতির বড় মঞ্চ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ভারত–শ্রীলংকার বিশ্বকাপে কন্ডিশন অনেকটাই কাছাকাছি হওয়ায় এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ জিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে চায় আইরিশরা।
১–১ সমতায় থাকা সিরিজের নিষ্পত্তি আজই। আর তাই ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল—যেখানে জয় চাই উভয় দলেরই।