৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি: বিলুপ্তির নির্দেশ কেন নয়, হাইকোর্টের রুল

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে—এমন দাবি করে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস।
রিটকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি গঠনের আইনগত এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই।
রিটে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রিটকারীদের দাবি, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০-এর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, যাচাইহীন ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটিগুলো বিলুপ্ত এবং এর ভিত্তিতে নেওয়া পরবর্তী সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি। পরে তারা হাইকোর্টে রিট করেন।
রুলে ওই আবেদন নিষ্পত্তি না করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০-এর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি এবং এ-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো কেন বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল
রিটে উল্লেখ করা অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে একটি ‘সিক্রেট গ্রুপ’-এর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। গ্রুপটির নাম ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে গ্রুপটির সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই রুলের মাধ্যমে হয়নি। রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগোবে।