ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জনগণের আস্থা অভূতপূর্ব: আইআরআই

বাংলাদেশের মানুষ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) দেশব্যাপী পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ উত্তরদাতা বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। এই আস্থার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জনগণের মতামত সংগ্রহ করে এই জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এই ফলাফল অন্তর্বর্তী সরকারের জনসমর্থনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
আইআরআই’র সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পরিচালিত এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। আর ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।
আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এই আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে।’
জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার। আর ২৩ শতাংশ ‘কিছুটা আগ্রহী’ বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেয়া ৮০ শতাংশ লোক।
কাও আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে। নীতিমালা, রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য সংস্থাটি থেকে এ জরিপ করা হয়। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।